বাংলায় এবার আক্ষরিক অর্থেই ‘পদ্ম-বিস্ফোরণ’। শুভেন্দু অধিকারীকে পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করার পর দিল্লিতে এক মেগা সাংবাদিক বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেসকে কার্যত ধুলোয় মিশিয়ে দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। রাজ্যের নির্বাচনী ফলাফলের কাটাছেঁড়া করতে গিয়ে শাহ দাবি করলেন, বাংলার ৯টি জেলায় এবার ‘দিদি’-র দলের অস্তিত্ব কার্যত মুছে গিয়েছে।
শূন্য থেকে শিখরে বিজেপি অমিত শাহ এদিন পরিসংখ্যান তুলে ধরে দেখান, কীভাবে গত কয়েক বছরে বাংলায় বিজেপির শক্তি বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি বলেন, “বিজেপির এই যাত্রা ঐতিহাসিক। যে দল একসময় ৩টি আসনে ছিল, আজ তারা ২০৭টি আসন নিয়ে বাংলায় সরকার গড়তে চলেছে। এই যাত্রা অভূতপূর্ব এবং এটি সম্ভব হয়েছে বাংলার মানুষের আশীর্বাদে এবং শুভেন্দু অধিকারীর মতো লড়াকু নেতাদের জন্য।” শাহের এই ‘৩ থেকে ২০৭’ মন্তব্যের পরেই জয় শ্রীরাম ধ্বনিতে ফেটে পড়ে দিল্লির বিজেপি সদর দপ্তর।
৯ জেলায় তৃণমূলের ‘ক্লিন সুইপ’ শাহের বক্তব্যের সবথেকে বিস্ফোরক অংশটি ছিল তৃণমূলের নির্বাচনী বিপর্যয় নিয়ে। তিনি দাবি করেন, রাজ্যের অন্তত ৯টি জেলায় তৃণমূল কংগ্রেস একটিও আসন জিততে পারেনি। তাঁর মতে, মানুষ তোষণ এবং দুর্নীতির রাজনীতিকে প্রত্যাখ্যান করে উন্নয়নের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। শাহ কটাক্ষ করে বলেন, “যে দিদি একসময় দিল্লি দখলের স্বপ্ন দেখতেন, আজ তাঁর নিজের খাসতালুকেই ভোটাররা তাঁকে খাতা খুলতে দেননি।”
শুভেন্দুর কাঁধে বড় দায়িত্ব শুভেন্দু অধিকারীকে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বেছে নেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে অমিত শাহ জানান, শুভেন্দুর লড়াই ছিল মাটির মানুষের লড়াই। তৃণমূলের অপশাসনের বিরুদ্ধে তিনি যেভাবে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন, আজ তারই ফল পেল বিজেপি। শুভেন্দুর নেতৃত্বেই বাংলা থেকে অনুপ্রবেশ এবং সিন্ডিকেট রাজ চিরতরে নির্মূল হবে বলে আত্মবিশ্বাসী শাহ।
সোনার বাংলা গড়ার শপথ সংবাদ সম্মেলনের শেষে অমিত শাহ স্পষ্ট বার্তা দেন যে, সরকার গঠন কেবল শুরু। আগামী পাঁচ বছরে বাংলাকে দেশের শ্রেষ্ঠ রাজ্য হিসেবে গড়ে তোলাই হবে শুভেন্দু সরকারের প্রধান লক্ষ্য। কেন্দ্রের মোদী সরকার এবং রাজ্যের শুভেন্দু সরকার— এই ‘ডবল ইঞ্জিন’ গতিতে বাংলা এবার উন্নয়নের পথে দৌড়বে বলে দাবি করেন তিনি।
বাংলার মসনদে এই ঐতিহাসিক পালাবদল এবং মমতাকে নিয়ে শাহের এই চ্যালেঞ্জিং বয়ান এখন নেট দুনিয়ায় দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে। ডেইলিয়ান্ট-এর পাঠকদের জন্য আমরা প্রতিটি মুহূর্তের ‘ইনসাইড স্টোরি’ নিয়ে হাজির থাকছি। নবান্নের নতুন সরকারের প্রথম বড় পদক্ষেপ কী হতে চলেছে? জানতে চোখ রাখুন আমাদের পরবর্তী প্রতিবেদনে।




