জল-জীবন মিশনে ফিরছে গতি! মেগা বরাদ্দে কি এবার ঘরে ঘরে পৌঁছাবে পরিস্রুত পানীয় জল?

বাংলার মসনদে পরিবর্তনের হাওয়া বইতেই দীর্ঘদিনের বকেয়া বরাদ্দ নিয়ে বরফ গলতে শুরু করেছে। কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাতের আবহে দীর্ঘদিন ধরে থমকে থাকা ‘জল-জীবন মিশন’ প্রকল্পের জন্য এবার বড়সড় অঙ্কের টাকা পেতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ। নবান্ন সূত্রে খবর, কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রক খুব শীঘ্রই রাজ্যকে ২৭০০ কোটি টাকার বকেয়া বরাদ্দ ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বিগত তৃণমূল সরকারের আমলে এই প্রকল্পের নামকরণ এবং ‘ব্র্যান্ডিং’ নিয়ে কেন্দ্রের সঙ্গে রাজ্যের দীর্ঘ টানাপোড়েন চলেছিল। কেন্দ্রীয় বিধি না মানার অভিযোগে এই প্রকল্পের টাকা আটকে দিয়েছিল দিল্লি। যদিও পরবর্তীতে রাজ্য সেই বিধিনিয়ম মেনে নেওয়ার ইঙ্গিত দিলেও বরাদ্দ পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। কিন্তু ২০২৬-এর নির্বাচনে রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের প্রেক্ষাপট তৈরি হতেই দিল্লি ও নবান্নের সম্পর্কে নতুন সমীকরণ দেখা যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁর নির্বাচনী প্রচারে বারবার ‘পিএম টু সিএম’ (PM to CM) অর্থাৎ কেন্দ্র ও রাজ্যের একযোগে কাজ করার যে বার্তা দিয়েছিলেন, এই বরাদ্দ ছাড়ার সিদ্ধান্ত তারই প্রতিফলন বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

ইতিমধ্যেই নবান্নের জনস্বাস্থ্য ও কারিগরি দফতরের সচিবের সঙ্গে কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রকের সচিবের এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক স্থির হয়েছে। দুই পক্ষের মধ্যে খুব শীঘ্রই একটি মৌ (MoU) বা সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হতে চলেছে। নবান্ন সূত্রে খবর, কত বাড়িতে জলের সংযোগ দেওয়া হয়েছে এবং কত টাকা বকেয়া রয়েছে, তার বিস্তারিত রিপোর্ট ইতিমধ্যেই দিল্লিতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় সচিবের তরফেও সবুজ সংকেত মিলেছে।

রাজ্যের বিদায়ী সরকার বারবার কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ‘বঞ্চনা’র অভিযোগ তুললেও, নতুন সরকারের আগমনের আগে এই বিপুল অর্থ সাহায্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। মনে করা হচ্ছে, এই ২৭০০ কোটি টাকা হাতে এলে গ্রাম বাংলার ঘরে ঘরে পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার কাজ আরও দ্রুত গতিতে সম্পন্ন হবে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি কেবল একটি প্রশাসনিক পদক্ষেপ নয়, বরং উন্নয়নের নতুন জমানার সূচনা।