অভিশপ্ত ‘অ্যানাবেল’ পুতুলের সঙ্গে সফর আর ফেরা হলো না! ড্যান রিভেরার রহস্যময় মৃত্যুর নেপথ্যে কী?

হলিউডের হরর মুভি ‘অ্যানাবেল’-এর নাম শোনেননি, এমন মানুষ পাওয়া দুষ্কর। সিনেমার পর্দার সেই ভয়ংকর পুতুলটি কি বাস্তবেও অশুভ ক্ষমতার অধিকারী? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে প্রাণ হারান প্যারানর্মাল গবেষক ড্যান রিভেরা। তার অকাল মৃত্যু আজও অনেকের মনে শিহরণ জাগায়।
কী ঘটেছিল সেই সফরে? ২০২৫ সালের ঘটনা। ৫৪ বছর বয়সী প্যারানর্মাল গবেষক ড্যান রিভেরা যুক্ত ছিলেন ‘ডেভিলস অন দ্য রান’ নামের একটি ট্যুরের সঙ্গে। এই ট্যুরের মূল আকর্ষণ ছিল খোদ বাস্তবের ‘অ্যানাবেল’ পুতুল। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে পুতুলটিকে নিয়ে ঘুরে এর পেছনের ইতিহাস ও অতিপ্রাকৃত রহস্য সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করছিলেন তিনি। সফরের এক পর্যায়ে এক হোটেলের কক্ষে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায় ড্যানকে। পরে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
মৃত্যুর কারণ নিয়ে জল্পনা ও বাস্তবতা ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুরু হয় ঝড়। নেটিজেনদের একাংশ দাবি করেন, অভিশপ্ত অ্যানাবেলের ছায়া পড়েছে এই মৃত্যুতে। তবে সরকারি তদন্ত রিপোর্ট এই জল্পনায় জল ঢেলে দেয়। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে স্পষ্টভাবে জানানো হয়, অ্যানাবেলের সঙ্গে এই মৃত্যুর কোনো প্যারানর্মাল সম্পর্ক নেই। ড্যান রিভেরার মৃত্যু হয়েছে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক কারণে—হৃদ্যন্ত্রের সমস্যার কারণেই তিনি প্রাণ হারিয়েছেন।
অ্যানাবেল: সিনেমা বনাম বাস্তবতা সিনেমায় অ্যানাবেলকে চীনামাটির ভয়ংকর পুতুল হিসেবে দেখানো হলেও, বাস্তবের অ্যানাবেল আসলে একটি সাধারণ ‘র্যাগেডি অ্যান’ (Raggedy Ann) পুতুল। সত্তরের দশকে বিখ্যাত প্যারানর্মাল গবেষক এড ও লরেন ওয়ারেন দাবি করেছিলেন, এই পুতুলটি অশুভ আত্মা দ্বারা প্রভাবিত। এরপরই এই পুতুলটি ঘিরে বিশ্বজুড়ে তৈরি হয় রহস্যের জাল, যা পরবর্তীতে হলিউডের কনজুরিং ও অ্যানাবেল সিরিজের জনপ্রিয়তার মূল ভিত্তি হয়ে দাঁড়ায়।
শেষ কথা বিজ্ঞানীরা বারবারই স্পষ্ট করেছেন, অ্যানাবেল পুতুলকে ঘিরে প্রচলিত কাহিনীগুলোর কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। ড্যান রিভেরার মৃত্যুতেও কোনো অতিপ্রাকৃত ঘটনার প্রমাণ মেলেনি। তবে মানুষের সহজাত কৌতূহল এবং রহস্যপ্রিয়তা অ্যানাবেলকে আজও এক ভয়ংকর আকর্ষণের কেন্দ্রে রেখেছে।