২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ডিগবাজি ট্রাম্পের! হরমুজ প্রণালী নিয়ে বড় ঘোষণা মার্কিন প্রেসিডেন্টের

ইরানের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই হরমুজ প্রণালী নিয়ে নিজের পূর্বের অবস্থান থেকে সরে এলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে তার এই নাটকীয় নীতি পরিবর্তন বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। গত সোমবার সমস্ত পণ্যবাহী জাহাজের ওপর ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিলেও, মঙ্গলবার তিনি সুর বদলে উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে বিশাল বিনিয়োগ চুক্তির ওপর জোর দিয়েছেন।

নতুন কী বললেন ট্রাম্প? মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক পোস্টে ট্রাম্প স্পষ্ট করেন, ইরান ছাড়া বিশ্বের অন্যান্য দেশের জাহাজের জন্য হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত থাকবে। তার ভাষ্যমতে, বর্তমান ইরানের নেতৃত্ব ‘প্রতারক এবং সহিংস’, যা দেশটিকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তাই ইরানগামী বা ইরানি পণ্য বহনকারী জাহাজগুলোর ওপর সম্পূর্ণ অবরোধ বজায় থাকবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

২০ শতাংশ কর বনাম বিশাল বিনিয়োগ গতকালের ঘোষিত ২০ শতাংশ ‘প্রতিপূরণ ফি’-এর বদলে এবার ট্রাম্প নতুন কৌশলের কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের নেতাদের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, ওই শুল্কের পরিবর্তে উপসাগরীয় দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিশাল বিনিয়োগ চুক্তিতে আবদ্ধ হবে। ট্রাম্পের দাবি, এই বিনিয়োগ যুক্তরাষ্ট্রে কারখানা ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে ঐতিহাসিক ভূমিকা রাখবে এবং লক্ষ লক্ষ নতুন চাকরির সুযোগ তৈরি করবে।

পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে কঠোর বার্তা বিনিয়োগ ও বাণিজ্য চুক্তির পাশাপাশি ইরানকে নিয়ে নিজের কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেছেন, “ইরানের কাছে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না।” ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর মন্তব্য করে তিনি দাবি করেন, সেদেশে বিক্ষোভকারীদের দমন-পীড়নের দিন শেষ হয়ে এসেছে।

বিশ্লেষণ: ট্রাম্পের এই দ্রুত নীতি পরিবর্তনকে ভূ-রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা কৌশলগত চাল হিসেবে দেখছেন। হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ জলপথে অর্থনৈতিক প্রভাব বিস্তারের পাশাপাশি সামরিক শক্তির প্রদর্শন দিয়ে ইরানকে চাপে রাখাই এখন মার্কিন প্রশাসনের মূল লক্ষ্য বলে মনে করা হচ্ছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর উপস্থিতিতে তেলের প্রবাহ বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে বলেও ট্রাম্প তার পোস্টে উল্লেখ করেছেন।