মুম্বইয়ের ডেরায় তখন গ্যালারি ভর্তি নীল জার্সি। ম্যাচের শুরুতেই গোল হজম করে কার্যত কোণঠাসা লাল-হলুদ ব্রিগেড। সমর্থকদের মনে তখন আশঙ্কার মেঘ—তবে কি খেতাব জয়ের স্বপ্ন এবারও অধরা থেকে যাবে? কিন্তু অস্কার ব্রুজোর ইস্টবেঙ্গল যে এবার অন্য ধাতুতে গড়া! প্রথমার্ধের চরম বিশৃঙ্খলা কাটিয়ে দ্বিতীয় হাফে যে ফুটবলটা তারা খেলল, তা এককথায় অবিশ্বাস্য। মুম্বই সিটিকে তাদের ঘরের মাঠে হারিয়ে লিগ টেবিলের পাঁচ নম্বর থেকে সরাসরি একলাফে শীর্ষে উঠে এল মশাল বাহিনী।
ম্যাচের শুরুতে অবশ্য ছবিটা এমন ছিল না। মুম্বইয়ের মুহুর্মুহু আক্রমণ আর রক্ষণের ভুলে ইস্টবেঙ্গল ডিফেন্স তখন তাসের ঘরের মতো কাঁপছে। ভাগ্য সুপ্রসন্ন না হলে তখনই হয়তো তিন-চার গোল হজম করতে হতো অস্কারের ছেলেদের। কিন্তু বিরতির পর কোচ অস্কার ব্রুজোর মগজাস্ত্রই বদলে দিল সবটা। মাঠে নামলেন মিগুয়েল এবং নন্দকুমার। আর এই দুই বদলি ফুটবলারই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিলেন। নন্দর সেই বিশ্বমানের গোল আর মিগুয়েলের মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ মুম্বইকে ম্যাচ থেকে ছিটকে দিল।
ম্যাচ শেষে অস্কার ব্রুজো অকপটে স্বীকার করলেন, “এটা আমাদের মরশুমের সেরা ম্যাচ ছিল না। প্রথমার্ধে মুম্বই অনেক বেশি সুযোগ তৈরি করেছিল। কিন্তু আমি বিরতিতে ছেলেদের মাথা ঠান্ডা রাখতে বলেছিলাম। যখন দল পিছিয়ে থাকে, তখন আমি ফুটবলারদের ওপর রাগ করি না, বরং তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর চেষ্টা করি। মিগুয়েল ও নন্দর অন্তর্ভুক্তি আমাদের ম্যাচে ফেরাতে বড় ভূমিকা নিয়েছে।”
তবে মাঠের জয়ের চেয়েও বেশি আলোচনা চলছে অস্কারের এক বিস্ফোরক ঘোষণায়। মুম্বই ম্যাচের ঠিক আগেই তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, মরশুম শেষেই ক্লাব ছাড়ছেন তিনি। যখন দল ট্রফির দৌড়ে রয়েছে, তখন কেন এমন সিদ্ধান্ত? এর উত্তরে অস্কার বলেন, “এটা সঠিক সময় কি না জানি না, কিন্তু আমি মনে করি একটা পেশাদার ক্লাবের ফুটবলারদের জানা উচিত অন্দরমহলে কী চলছে। তাদের সবটা জানার অধিকার আছে। আমি শুধু দলকে রক্ষা করতে চেয়েছি।”
ইস্টবেঙ্গলের সামনে এখন তিনটে ‘ফাইনাল’। পাঞ্জাব এফসি, মোহনবাগান এবং ইন্টার কাশির বিরুদ্ধে ম্যাচগুলোই ঠিক করে দেবে কার ঘরে যাচ্ছে ট্রফি। বিশেষ করে ডার্বি ম্যাচটি এবার খেতাব নির্ধারণকারী লড়াই হতে চলেছে। তবে অস্কার এখনই অতদূর ভাবতে রাজি নন। তাঁর লক্ষ্য আপাতত পাঞ্জাব ম্যাচ। আগামী সোমবার যুবভারতীতে সমর্থকদের ভিড় দেখতে চান তিনি। কোচ হীন ইস্টবেঙ্গলের ভবিষ্যৎ যাই হোক, আপাতত লিগ টেবিলের শীর্ষে থেকে শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে এক কদম এগিয়ে রইল লাল-হলুদ।





