আইপিএল ২০২৬-এর মেগা ফাইনালকে ঘিরে এক নাটকীয় মোড় নিল ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (BCCI)। দীর্ঘ জল্পনার অবসান ঘটিয়ে বোর্ড আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দিল, আসন্ন আইপিএল ফাইনালের ভাগ্য নির্ধারিত হবে সেই আমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামেই। আগামী ৩১ মে বিশ্বের বৃহত্তম এই ক্রিকেট স্টেডিয়ামেই ট্রফি হাতে উল্লাস করবে চ্যাম্পিয়ন দল। তবে এই সিদ্ধান্তের পেছনে লুকিয়ে রয়েছে এক বড় পরিবর্তন।
প্রাথমিকভাবে এবারের ফাইনাল বেঙ্গালুরুর এম চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু লজিস্টিক সংক্রান্ত জটিলতা এবং কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার কথা মাথায় রেখে শেষ মুহূর্তে ভেন্যু পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেন বোর্ড কর্তারা। বোর্ড সূত্রে খবর, বড় ম্যাচের ভিড় সামলানো এবং পরিকাঠামোগত নির্ভরযোগ্যতার নিরিখে আমেদাবাদকেই সুরক্ষিত বিকল্প হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। উল্লেখযোগ্য যে, গত পাঁচ বছরের মধ্যে এই নিয়ে চারবার আইপিএল ফাইনালের সাক্ষী হতে চলেছে নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়াম। গতবার অর্থাৎ ২০২৫ সালেও এই মাঠেই ইতিহাস গড়েছিল বিরাট কোহলির রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু।
নকআউট পর্বের সময়সূচি ও ভেন্যু:
এবারের প্লে-অফ ও নকআউট পর্বের জন্য তিনটি ভিন্ন শহরকে বেছে নিয়েছে বিসিসিআই। যা গতবারের তুলনায় অনেকটাই আলাদা। সূচি অনুযায়ী:
কোয়ালিফায়ার-১: ২৬ মে, হিমাচল প্রদেশ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন স্টেডিয়াম, ধরমশালা।
এলিমিনেটর: ২৭ মে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম, নিউ চণ্ডীগড়।
কোয়ালিফায়ার-২: ২৯ মে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম, নিউ চণ্ডীগড়।
ফাইনাল: ৩১ মে, নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়াম, আমেদাবাদ।
পরিবর্তিত নিয়মে কার সুবিধা?
২০২৫ সালে আইপিএলের নকআউট ম্যাচগুলি মাত্র দুটি ভেন্যুতে সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু এবার বিসিসিআই তিনটি ভেন্যুতে খেলা আয়োজনের বিশেষ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সাধারণত কোয়ালিফায়ার-২ এবং ফাইনাল একই মাঠে হয়ে থাকে, যা সংশ্লিষ্ট দলকে মাঠের পরিস্থিতি বুঝতে সাহায্য করে। তবে এবারের নিয়মে কোয়ালিফায়ার-২ জয়ী দলকেও ফাইনালের জন্য মাঠ বদলাতে হবে। ফলে ধরমশালা থেকে সরাসরি আমেদাবাদে পৌঁছানো কোয়ালিফায়ার-১ জয়ী দলের মতোই কোয়ালিফায়ার-২ জয়ী দলকেও নতুন পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে। এই লজিস্টিক পরিবর্তনের ফলে কোনো বিশেষ দল বাড়তি সুবিধা পাবে কি না, তা নিয়ে এখন থেকেই ক্রিকেট মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।





