বিহারের রাজনীতিতে বইছে পরিবর্তনের প্রবল হাওয়া। আগামী ৭ মে পাটনায় অনুষ্ঠিত হতে চলেছে নীতীশ ক্যাবিনেটের বহু প্রতীক্ষিত মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ অনুষ্ঠান। আর এই অনুষ্ঠানকে ঘিরে সবথেকে বড় চমক হতে চলেছেন খোদ নীতীশ-পুত্র নিশান্ত কুমার। সূত্রের খবর, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উপস্থিতিতেই এই জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে শপথ নিতে পারেন নিশান্ত। দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার অলিন্দ থেকে দূরে থাকতে চাওয়া নিশান্তের এই ‘ইউ-টার্ন’ এখন রাজনৈতিক মহলে সবথেকে বড় আলোচনার বিষয়।
বিজেপি এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানকে এক ঐতিহাসিক রূপ দিতে কোমর বেঁধে নেমেছে। এর আগে নিশান্তের উপ-মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার জল্পনা থাকলেও তিনি তা সবিনয়ে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। জেডিইউ কোটা থেকে বিজয় চৌধুরী এবং বিজেন্দ্র প্রসাদ যাদবকে উপ-মুখ্যমন্ত্রী করা হয়েছিল। তবে দলীয় সূত্রের দাবি, নিশান্ত সরকারে যোগ দিতে রাজি হওয়ায় প্রবীণ নেতা বিজেন্দ্র প্রসাদ যাদব তাঁর পদ ছেড়ে দিতে পারেন। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, গত ২০ দিনে এমন কী জাদু ঘটল যে নিশান্ত ক্ষমতার মসনদে বসতে রাজি হলেন? এর পেছনে রয়েছে তিনটি প্রধান কারণ।
১. সদ্ভাব যাত্রা ও চম্পারণের জনমত:
গত ৩ মে পাটনা থেকে বাল্মীকিনগর পর্যন্ত ‘সদ্ভাব যাত্রা’ শুরু করেছিলেন নিশান্ত। এই সফরে তিনি সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ সরাসরি শোনেন। পশ্চিম ও পূর্ব চম্পারণে তাঁর সভায় ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে বেতিয়ায় এক যুবকের চম্পারণে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের দাবি এবং সেই ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর জেডিইউ-এর শীর্ষ নেতারা নিশান্তকে বোঝাতে সক্ষম হন যে, সাধারণ মানুষের এই আবেগকে বাস্তবে রূপ দিতে গেলে সরকারি ক্ষমতার প্রয়োজন। পদের বাইরে থেকে কাজ করলে কর্মকর্তাদের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখা সম্ভব নয়, যা শেষ পর্যন্ত জনমানসে ভুল বার্তা দেবে।
২. সরকার ও সংগঠনের সেতুবন্ধন:
বিহারে টানা ২০ বছর ক্ষমতায় থাকা জেডিইউ-তে নীতীশ কুমার সর্বদা সরকার ও সংগঠনের মেলবন্ধন বজায় রেখেছেন। দলীয় থিঙ্ক-ট্যাঙ্ক মনে করছে, নিশান্ত মন্ত্রিসভায় এলে সংগঠনের ওপর তাঁর যে নিয়ন্ত্রণ রয়েছে, তা সরকারি সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা পালন করবে। নিশান্তের সরকারি অভিষেক নীতীশের উত্তরসূরি হিসেবে তাঁর গ্রহণযোগ্যতাকে আরও মজবুত করবে বলেই মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।
৩. কুর্মি ও লব-কুশ রাজনীতির অঙ্ক:
নীতীশ কুমার বরাবরই কুর্মি, মহাদলিত এবং চরম অনগ্রসর শ্রেণিকে নিয়ে তাঁর সামাজিক প্রকৌশল সাজিয়েছেন। কিন্তু সম্প্রতি কুর্মি রাজনীতির অন্দরে বিভাজনের সুর শোনা যাচ্ছিল। বিশেষ করে শ্রাবণ কুমার এবং দশবারের বিধায়ক হরিনারায়ণ সিংয়ের সমর্থকদের মধ্যে দ্বন্দ্ব দলকে অস্বস্তিতে ফেলেছিল। কুর্মি সম্প্রদায়ের এই অভ্যন্তরীণ সংঘাত মেটাতে এবং নালন্দার রাজনীতিতে নিজের আধিপত্য বজায় রাখতে নিশান্তের সরকারে আসা অপরিহার্য হয়ে পড়েছিল। লব (কুর্মি) ও কুশ (কুশওয়াহা) ঐক্যে ফাটল ধরার আগেই নিশান্তকে সামনে এনে ড্যামেজ কন্ট্রোলের পথে হাঁটল জেডিইউ। সমর্থকদের প্রবল চাপ আর বিহারের জটিল সমীকরণের চাপে পড়েই শেষমেশ ‘অনিচ্ছুক’ নিশান্ত তাঁর রাজনৈতিক সন্ন্যাস ভাঙতে রাজি হয়েছেন।





