বিশ্বজুড়ে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং মধ্যপ্রাচ্যে চলা যুদ্ধের আবহেও ভারতীয় অর্থনীতি এক অভাবনীয় সাফল্যের নজির গড়ল। বুধবার প্রকাশিত ‘এইচএসবিসি ইন্ডিয়া সার্ভিসেস পিএমআই’ (HSBC India Services PMI) তথ্য অনুযায়ী, ভারতের পরিষেবা ক্ষেত্র (Services Sector) গত পাঁচ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছেছে। এপ্রিল মাসে সার্ভিসেস পারচেজিং ম্যানেজারস ইনডেক্স বা পিএমআই ৫৯.২-তে পৌঁছেছে, যা গত নভেম্বর ২০২৫-এর পর থেকে সেরা পরিসংখ্যান।
মার্চ মাসে এই সূচক ছিল ৫৭.৫। মাত্র এক মাসের ব্যবধানে এই বড় লাফ প্রমাণ করছে যে, ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজার এখন বিশ্ববাজারের ঝোড়ো হাওয়ার মধ্যেও স্থিতিশীল। সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারী সংস্থাগুলো জানিয়েছে, ই-কমার্স ব্যবস্থার প্রসার, লজিস্টিক ও রিলোকেশন পরিষেবার ব্যাপক চাহিদা এবং প্রতিযোগিতামূলক দামের কারণে নতুন ব্যবসার হার এক লাফে অনেকটাই বেড়ে গেছে।
এইচএসবিসি-র প্রধান ভারতীয় অর্থনীতিবিদ প্রাঞ্জুল ভাণ্ডারী এই অভাবনীয় সাফল্যের বিশ্লেষণ করতে গিয়ে জানান, “বিদেশের বাজারে নতুন অর্ডারের হার কিছুটা কমলেও ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে চাহিদা তুঙ্গে। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার কারণে বিদেশি গ্রাহকদের চেয়েও এখন দেশের অভ্যন্তরীণ গ্রাহকদের ওপর ভিত্তি করেই নতুন অর্ডারের জোয়ার এসেছে।”
ব্যবসায়িক খরচের ক্ষেত্রে দেখা গেছে যে, ইনপুট মূল্যের মুদ্রাস্ফীতি মার্চ মাসের তুলনায় কিছুটা কমেছে। তবে সবথেকে ইতিবাচক দিক হলো, কাঁচামালের দাম বাড়লেও বহু সংস্থা সেই বাড়তি খরচের বোঝা সরাসরি গ্রাহকদের ওপর চাপিয়ে দেয়নি। এর ফলে খুচরো বাজারে মুদ্রাস্ফীতির প্রভাব কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আগামী এক বছরের জন্য পরিষেবা সংস্থাগুলো যথেষ্ট আশাবাদী। বিপণন কৌশল এবং গ্রাহকদের ক্রমাগত অনুসন্ধান তাদের এই আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে।
চাকরিপ্রার্থীদের জন্যও এই রিপোর্ট বড় বার্তা বহন করে এনেছে। বর্ধিত কাজের চাপ সামলাতে প্রতিটি সংস্থাই এখন কর্মী নিয়োগে জোর দিচ্ছে। বিশেষ করে কনিষ্ঠ স্তর এবং স্বল্পমেয়াদী চুক্তিতে প্রচুর নিয়োগ শুরু হয়েছে। সামগ্রিকভাবে ভারতের বেসরকারি ক্ষেত্র এপ্রিল মাসে এক নয়া উচ্চতায় পৌঁছেছে। কম্পোজিট পিএমআই আউটপুট ইনডেক্স মার্চের ৫৭ থেকে বেড়ে ৫৮.২ হয়েছে। শুধু পরিষেবা নয়, ম্যানুফ্যাকচারিং বা উৎপাদন ক্ষেত্রেও ভারতের পিএমআই সূচক মার্চ মাসের ৫৩.৯ থেকে বেড়ে এপ্রিল মাসে ৫৪.৭ হয়েছে। সব মিলিয়ে ভারতের অর্থনীতির এই অপ্রতিরোধ্য গতি এখন বিশ্বমঞ্চে এক নয়া আলোচনার বিষয়।





