ভোট মিটতেই ‘রক্তস্নান’ সন্দেশখালিতে, যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন বিদ্ধ পুলিশকর্তারা, কী ঘটছে সেখানে?

ভোটের ফল প্রকাশের পর চব্বিশ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই তপ্ত হয়ে উঠল বাংলার অন্যতম সংবেদনশীল এলাকা সন্দেশখালি। মঙ্গলবার রাতে সন্দেশখালির ন্যাজাট থানার বিটপোল এলাকায় ভোট পরবর্তী হিংসা রুখতে গিয়ে দুষ্কৃতীদের নজিরবিহীন হামলার মুখে পড়ল পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে দুষ্কৃতীদের ছোঁড়া গুলিতে বিদ্ধ হলেন ন্যাজাট থানার ওসি (OC), একজন মহিলা কনস্টেবল এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর (CAPF) দুই জওয়ান। এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা বসিরহাট পুলিশ জেলায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার রাত থেকেই বিটপোল এলাকায় দুপক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ ও বোমাবাজি চলছিল। খবর পেয়েই বিশাল পুলিশ বাহিনী ও কেন্দ্রীয় জওয়ানদের নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন ন্যাজাট থানার ওসি। অভিযোগ, এলাকা শান্ত করার চেষ্টা চলাকালীন আচমকাই একটি বাড়ির ভিতর থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলিবর্ষণ শুরু করে দুষ্কৃতীরা। সেই গুলিতেই ওসির পায়ে গভীর ক্ষত তৈরি হয় এবং এক মহিলা কনস্টেবলও রক্তাক্ত হন। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে কলকাতার চিত্তরঞ্জন হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। বর্তমানে তাঁদের অবস্থা স্থিতিশীল থাকলেও আতঙ্ক কাটছে না।

বুধবার সকালে ঘটনাস্থলে পৌঁছন কেন্দ্রীয় বাহিনীর উচ্চপদস্থ আধিকারিক ও বসিরহাট পুলিশ জেলার সুপার অলকানন্দা ভাওয়াল। পুলিশ সুপার জানান, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং মঙ্গলবার রাতেই বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। এলাকায় নতুন করে অশান্তি এড়াতে বিশাল পুলিশ বাহিনী ও র‍্যাফ (RAF) মোতায়েন করা হয়েছে। তবে পুলিশের ওপর এই সশস্ত্র হামলা সাধারণ মানুষের মনে চরম আতঙ্ক তৈরি করেছে। স্থানীয় বাসিন্দা সুমিত্রা সরকার বলেন, “কাল রাতে যেভাবে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়েছে, তাতে আমরা স্তম্ভিত। ভয়ে সারারাত কেউ চোখের পাতা এক করতে পারিনি। দুষ্কৃতীরা যখন তেড়ে এল, আমরা ঘরে ঢুকে দরজা দিয়ে দিই।”

এদিকে এই ঘটনায় রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে। বসিরহাট সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সভাপতি সুকল্যাণ বৈদ্যর দাবি, এটি কোনো রাজনৈতিক সংঘর্ষ নয়, বরং দীর্ঘদিনের স্থানীয় গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ফল। তিনি অভিযোগ করেন, এলাকায় আদিবাসী সম্প্রদায়ের উপর চলা অত্যাচারের প্রতিবাদ থেকেই এই সংঘাতের সূত্রপাত। বিজেপিকে কালিমালিপ্ত করতেই মিথ্যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে বলে তিনি সাফ জানিয়ে দেন। বর্তমানে এলাকায় চিরুনি তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। উল্লেখ্য, ২০২৬-এর ফল প্রকাশের পর থেকেই রাজ্যের নিউটাউন, বেলেঘাটা ও নানুরে প্রাণহানির খবর মিলেছে। সেই তালিকায় এবার যুক্ত হল সন্দেশখালির এই রক্তক্ষয়ী অধ্যায়।