ফর্ম হারিয়ে চরম হতাশায় বিস্ফোরক ওপেনার! জিম্বাবুইয়ে সফরে ব্যর্থতার পর অভিষেক শর্মাকে নিয়ে সূর্যকুমার যাদবের কোন বার্তা ঝড় তুলল নেটপাড়ায়?

ভারতীয় ক্রিকেটের বর্তমান প্রজন্মের অন্যতম সবচেয়ে বিস্ফোরক ও মারমুখী ব্যাটসম্যান অভিষেক শর্মা এই মুহূর্তে তাঁর বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ক্যারিয়ারের সবথেকে কঠিন ও বাজে সময়ের মধ্যে দিয়ে অগ্রসর হচ্ছেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মহলের নজর কেড়ে নেওয়া এই মারকাটারি ওপেনার সদ্য সমাপ্ত জিম্বাবুইয়ে সফরে খেলতে গিয়ে তাঁর চিরচেনা আক্রমণাত্মক ছান্দসিক ছন্দ সম্পূর্ণ হারিয়ে ফেলেছিলেন। দলীয় পরিকল্পনা ও নির্বাচকদের আস্থার পূর্ণ মর্যাদা দিয়ে মাঠে নেমেও জিম্বাবুইয়ের বিরুদ্ধে অনুষ্ঠিত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ টি-টোয়েন্টি সিরিজের কোনো একটি ম্যাচেও তিনি ব্যক্তিগত স্কোরে দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে পারেননি। পরিস্থিতির গভীরতা এতটাই শোচনীয় ছিল যে, পুরো সিরিজে টানা তিনটি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাওয়ার পরেও অভিষেক নিজের নামের প্রতি বিন্দুমাত্র সুবিচার করতে পারেননি এবং তিন ম্যাচ মিলিয়ে অত্যন্ত লজ্জাজনকভাবে মাত্র ১১ রান সংগ্রহ করতে সক্ষম হন। দলের এই চরম বিপর্যয়মূলক এবং ধারাবাহিক ব্যর্থ পারফরম্যান্সের পর অভিষেক মানসিকভাবে মারাত্মক ভেঙে পড়েন এবং প্রচণ্ড হতাশার কবলে পড়ে সিরিজ সমাপ্তির সঙ্গে সঙ্গেই নিজের মনের গভীর কষ্টের কথা সোশ্যাল মিডিয়ার প্ল্যাটফর্মে জনসমক্ষে প্রকাশ করতে বাধ্য হন। তবে এই চরম দুর্দিন ও দুঃসময়ে টিম ইন্ডিয়ার ড্রেসিংরুম এবং সতীর্থদের মানসিক সমর্থন যে তাঁর সম্পূর্ণ পেছনে রয়েছে, তা হাতেনাতে প্রমাণ করে ভারতের অভিজ্ঞ টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব নিজে এগিয়ে আসেন এবং একনিষ্ঠ অভিভাবকের মতো তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে তাঁকে মানসিকভাবে চাঙ্গা করতে বিশেষ বার্তা দেন।
আন্তর্জাতিক জিম্বাবুইয়ে সফরের এই অত্যন্ত হতাশাঞ্জক টি-টোয়েন্টি সিরিজটি আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তরুণ ওপেনার অভিষেক শর্মা তাঁর নিজস্ব ভেরিফায়েড ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলে একটি আবেগঘন বার্তা পোস্ট করে নিজের ভেতরের না বলা কষ্ট ও অনুভূতি অকপটে প্রকাশ করেন। ভবিষ্যতে আরও অনেক বেশি মানসিক শক্তি ও জেদ সঞ্চয় করে মাঠে কামব্যাক করার দৃঢ় সংকল্প ঘোষণা করলেও, দেশের হয়ে নিজের সেরাটা দিতে না পারার গভীর আফসোস ও বেদনা তিনি কোনোভাবেই লুকাতে পারেননি। নিজের অফিসিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে এই প্রতিভাবান ক্রিকেটার অত্যন্ত আক্ষেপের সুরে লিখেছেন, “সাধারণ মানুষ এবং দেশের কোটি কোটি ক্রিকেটপ্রেমীর প্রত্যাশা ও ভরসা যখন আমি মাঠে দাঁড়িয়ে সঠিকভাবে পূরণ করতে পারি না, তখন আমার ভেতরটা প্রচণ্ড কষ্টে ভেঙে যায়। তবে ব্যক্তিগতভাবে আমি ব্যর্থ হলেও দল শেষ পর্যন্ত ম্যাচ জিতেছে, এতে আমি মনেপ্রাণে ভীষণ খুশি। আমি কথা দিচ্ছি, এই অন্ধকূপ থেকে শিক্ষা নিয়ে আমি আরও বহুগুণ বেশি মানসিক ও শারীরিক শক্তি অর্জন করে সবুজ ঘাসে কামব্যাক করব।”
তরুণ ওপেনারের এই চরম হতাশাগ্রস্ত ও মন খারাপ করা ইনস্টাগ্রাম পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই নজর কাড়ে ভারতীয় দলের অভিজ্ঞ মিডল অর্ডার ব্যাটার তথা তৎকালীন টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবের। ক্রিকেটের এই চরম দুর্দিনে এবং মানসিক অবসাদের মুহূর্তে সূর্যকুমার বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করে সরাসরি অভিষেকের পাশে এসে ঢাল হয়ে দাঁড়ান। অভিষেকের সেই সংবেদনশীল পোস্টের কমেন্ট বক্সে অত্যন্ত ইতিবাচক ও গঠনমূলক মন্তব্য করে সূর্যকুমার যাদব মনস্তাত্ত্বিক সমর্থন জুগিয়ে লিখেছেন, “ভাই, তুমি বিগত দীর্ঘ দুই বছর ধরে নিরলসভাবে আমাদের সকলের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য অগণিত দারুণ মুহূর্ত উপহার দিয়েছ। ভারতের যখন আন্তর্জাতিক মঞ্চে ঠিক সবচেয়ে বেশি জয়ের এবং সাফল্যের প্রয়োজন ছিল, ঠিক তখনই তুমি নিজের অসাধারণ পারফরম্যান্স দিয়ে দেশবাসীর জন্য চরম গৌরব বয়ে এনেছ। এই সাময়িক অফফর্ম বা খারাপ সময় জীবনেরই একটা অংশ মাত্র, এটি কেবল সময়ের একটি ছোট চাকা যা দ্রুত ঘুরে যাবে। কোনো অবস্থাতেই নিজের মানসিক দৃঢ়তা ও মনোবল হারাতে দিও না, সামনে তাকাও।”
শুধু ভারতীয় জাতীয় দলের অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবই নন, এই কঠিন পরিস্থিতিতে তরুণ ওপেনারের পরিবার এবং আত্মিক সম্পর্কের মানুষেরাও তাঁর পাশে এসে শক্ত প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছেন। অভিষেক শর্মার নিজস্ব শ্যালকও তাঁর এই অন্তরের গভীর কষ্ট মিশ্রিত ইনস্টাগ্রাম পোস্টটি সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখার সঙ্গে সঙ্গেই উষ্ণ সমর্থন জানিয়ে একটি উৎসাহব্যঞ্জক বার্তা প্রকাশ করেছেন। তিনি তাঁর প্রতিক্রিয়ায় অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় লিখেছেন, “প্রাথমিক জীবনের এই সাময়িক খারাপ সময় বা ছন্দপতন কখনোই একজন সত্যিকারের মহান খেলোয়াড়ের প্রকৃত প্রতিভা বা যোগ্যতার চূড়ান্ত পরিচয় নির্ধারণ করতে পারে না। তোমার মধ্যে যে সহজাত প্রতিভা ও মারকাটারি ব্যাটিংয়ের ক্ষমতা রয়েছে, তা ঈশ্বরদত্ত এবং পৃথিবীর কোনো শক্তিই তোমার কাছ থেকে সেই ক্রিকেটীয় প্রতিভা কেড়ে নিতে পারবে না। আমি একশো ভাগ নিশ্চিত যে তোমার এই কামব্যাক হবে ইতিহাসের অন্যতম সেরা এবং অনেক বেশি শক্তিশালী। পেছনের সব গ্লানি মুছে ফেলে সামনে এগিয়ে চলো, মাঠ কাঁপানোর জন্য প্রস্তুত হও, আমার ভাই ‘শেরা’.” সমস্ত ক্রিকেট বিশেষজ্ঞ ও সমর্থকদের এখন একটাই অপেক্ষা, কত দ্রুত এই তরুণ তুর্কি নিজের আসল ছন্দে ফিরে বিশ্বমঞ্চে রাজত্ব করেন।