’স্বপ্নার জীবন নষ্ট করেছেন গৌতম’, বিস্ফোরক কাউন্সিলর দিলীপ! দল ছাড়ার হিড়িকে উত্তরবঙ্গে কি অস্তিত্ব সংকটে তৃণমূল?

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে উত্তরবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের শোচনীয় পরাজয় স্রেফ একটি রাজনৈতিক হার নয়, বরং দলের অন্দরে জমে থাকা দীর্ঘদিনের ক্ষোভের আগ্নেয়গিরি। ফল প্রকাশের পর চব্বিশ ঘণ্টাও কাটেনি, তার আগেই দলের ‘কর্পোরেট সংস্কৃতি’ এবং ‘মালিক-চাকর’ সমীকরণ নিয়ে বোমা ফাটালেন দার্জিলিং জেলা তৃণমূলের প্রাক্তন সভানেত্রী তথা প্রাক্তন মন্ত্রী-কন্যা পাপিয়া ঘোষ। তাঁর সাথে সুর মিলিয়ে শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেবের পদত্যাগ দাবি করে সরব হয়েছেন কাউন্সিলর দিলীপ বর্মন।

নির্বাচনী ভরাডুবির কারণ বিশ্লেষণ করতে গিয়ে পাপিয়া ঘোষ কার্যত তুলোধোনা করেছেন দলের শীর্ষ নেতৃত্ব ও নির্বাচনী কৌশলী সংস্থা আইপ্যাক-কে। তাঁর বিস্ফোরক অভিযোগ, “গত পাঁচ বছরে তৃণমূল কোনো সিস্টেমে চলেনি। দল চলেছে শুধু মালিক আর চাকরের সমীকরণে। নিচুতলার কর্মীদের অবস্থা ছিল দাসের মতো। ওপরতলার নির্দেশ তামিল করাই ছিল আমাদের একমাত্র কাজ।” পাপিয়ার দাবি, আইপ্যাক এবং কিছু দম্ভী নেতার জন্যই সংগঠনের এই দশা। তিনি সাফ জানান, কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়াকড়িতে আইপ্যাকের কোনো ছক খাটেনি, আর বাংলার মানুষ তৃণমূলকে নয়, বরং এই নেতাদের অহংকারকেই প্রত্যাখ্যান করেছে।

উত্তরবঙ্গের এই রাজনৈতিক অস্থিরতার আঁচ সবথেকে বেশি পড়েছে শিলিগুড়িতে। শিলিগুড়ি পুরনিগমের ৪৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর দিলীপ বর্মন সরাসরি আঙুল তুলেছেন মেয়র গৌতম দেবের দিকে। ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি আসনে বিজেপি প্রার্থী শঙ্কর ঘোষের কাছে ৭৩ হাজার ভোটের বিশাল ব্যবধানে হেরেছেন গৌতম দেব। দিলীপ বর্মনের দাবি, “গৌতম দেবের অহংকার এবং দুর্নীতির জন্যই দল উত্তরবঙ্গে শেষ হয়ে গেল। উনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দিনের পর দিন ভুল বুঝিয়ে এসেছেন।” এমনকি, সোনাজয়ী অ্যাথলিট স্বপ্না বর্মণকে রাজগঞ্জে প্রার্থী করা এবং তাঁর রেলের চাকরি হারানোর নেপথ্যেও গৌতম দেবের ‘অনৈতিক চক্রান্ত’ রয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন তিনি। দিলীপের হুঙ্কার, “অবিলম্বে মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দিন গৌতম দেব, না হলে উনি কি দেহত্যাগের পর পদত্যাগ করবেন?”

উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোতে তৃণমূলের এই বিপর্যয় এবং সংগঠনের ভেতরে বাড়তে থাকা ‘সিন্ডিকেট-রাজ’ এখন প্রকাশ্যে। পতিরামের মতো এলাকায় তৃণমূল কার্যালয় রাতারাতি ‘গেরুয়া’ হয়ে যাওয়া বা জেলা নেতাদের বিদ্রোহ প্রমাণ করছে যে, উত্তরবঙ্গে ঘাসফুল শিবিরের ভিত আলগা হয়ে গিয়েছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত পাপিয়া ঘোষের এই বিদ্রোহ শীর্ষ নেতৃত্বকে চরম অস্বস্তিতে ফেলেছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, পরাজয়ের পর দলের ভেতরে যাঁরা এতদিন কোণঠাসা ছিলেন, তাঁরা একে একে মুখ খুলতে শুরু করায় শাসক শিবিরের ভবিষ্যৎ এখন বিশ বাঁও জলে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy