“শুধু আন্দোলন হচ্ছে বলেই লাঠিচার্জ করা যায় না!” পুলিশি বলপ্রয়োগ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের কড়া বার্তা

দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি চলাকালীন পুলিশের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ নিয়ে দেশজুড়ে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক। আর ঠিক এই আবহেই একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মৌখিক পর্যবেক্ষণ সামনে আনল সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত-এর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিশেষ বেঞ্চ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে— “শুধু আন্দোলন হচ্ছে বলেই নির্বিচারে লাঠিচার্জ করা যায় না।” ### সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশ সোমবার এই সংক্রান্ত একটি নতুন মামলার শুনানির আবেদন জমা পড়ে আদালতে। সেখানে ছাত্রছাত্রীদের মারধর ও অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ তোলা হয়। অন্যদিকে পুলিশের পক্ষ থেকেও পাল্টা আবেদন রাখা হয়। এরপর প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত ও বিচারপতি জয়মালা বাগচী সমন্বিত বেঞ্চ বেশ কিছু কড়া ও ভারসাম্যপূর্ণ মন্তব্য করেন:

  • পুলিশের ভূমিকা ও প্রোটোকল: বিচারপতি জয়মালা বাগচী জানান, “উভয় বিষয়ই সমান গুরুত্বপূর্ণ। যেমন আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা কাম্য নয়, তেমনই পুলিশকর্মীদের ওপরও হামলা হওয়া উচিত নয়।” পাশাপাশি, পুলিশ কেন পর্যাপ্ত স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (SOP) বা প্রোটোকল অনুসরণ করছে না, সে বিষয়ে রাজ্যগুলির কাছে ব্যাখ্যা তলব করা হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছে শীর্ষ আদালত।

  • সবার জন্য নিরাপত্তা: প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, “প্রত্যেক নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা উচিত। কোথাও অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ হয়ে থাকলে তা রোধ করতে হবে। এর জন্য নির্দিষ্ট প্রোটোকল থাকা জরুরি। বিষয়টি শুধু দিল্লির নয়, দেশের বিভিন্ন জায়গায় আন্দোলন হয়েছে। গণতন্ত্রে আত্মনিয়ন্ত্রিত শৃঙ্খলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

  • ভারসাম্য রক্ষা: আদালতের মতে, যুবক-যুবতীদের শান্তিপূর্ণভাবে নিজেদের মত প্রকাশের মৌলিক অধিকার এবং কোনো সমাজবিরোধী শক্তি বা উপাদান যাতে সেই আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে বিশৃঙ্খলা না পাকাতে পারে, এই দুয়ের মধ্যে সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি।

সমস্ত নতুন মামলার গুরুত্ব বিবেচনা করে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে যে, এই সংক্রান্ত সমস্ত মামলার একসঙ্গে শুনানি হবে আজ, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই

বিহারের ‘সিওয়ান কাণ্ড’ ও দেশজুড়ে রাজনৈতিক শোরগোল

দিল্লির সংসদ চলো অভিযান থেকে শুরু করে সম্প্রতি ২৫ জুলাইয়ের ‘বিহার বন্ধ’ কর্মসূচি—সব জায়গাতেই ছাত্র বিক্ষোভ ও পুলিশের কড়া পদক্ষেপ নিয়ে উত্তপ্ত জাতীয় রাজনীতি।

  • AK-47 থেকে গুলি চালানোর অভিযোগ: বিহার বন্ধের দিন সিওয়ানে ছাত্র আন্দোলনের সময় পুলিশের একাংশের বিরুদ্ধে AK-47 রাইফেল থেকে গুলি চালানোর চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত এক পুলিশকর্মীকে ইতিমধ্যেই সাসপেন্ড করা হয়েছে।

  • আহত সাধারণ নাগরিক: ওই পুলিশি গুলিতে গুরুতর আহত হয়ে ১৫ বছরের কিশোর মহম্মদ আরিফ সহ তিনজন বর্তমানে পাটনার জয়প্রভা মেদান্তা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। পরিবারের দাবি, দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথেই কিশোরটির গলায় গুলি লাগে। পরে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তা বের করা হয়।

  • আইনি ও রাজনৈতিক লড়াই: সিওয়ানের এই গুলিকাণ্ডের জেরে রাজ্যসভার সাংসদ মনোজ কুমার ঝা সুপ্রিম কোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা (PIL) দায়ের করেছেন। পাশাপাশি, লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীও বিষয়টি তুলে ধরে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে, দিল্লির আন্দোলনে পেলেট গান এবং বিহারে AK-47 ব্যবহারের মতো ঘটনাগুলি দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অত্যন্ত বিপজ্জনক প্রবণতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।