দাউদ ইব্রাহিমের সঙ্গে মন্দাকিনীর গোপন বিয়ে ও সন্তান? শারজার সেই ভাইরাল ছবির আসল সত্যি ফাঁস!

নব্বইয়ের দশকের বলিউড মানেই গ্ল্যামার আর আন্ডারওয়ার্ল্ডের এক রহস্যময় মিশেল। আর সেই রহস্যের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন ‘রাম তেরি গঙ্গা মইলি’ খ্যাত নীল নয়না অভিনেত্রী মন্দাকিনী। তাঁর ক্যারিয়ার যতটা দ্রুত সাফল্যের শিখরে পৌঁছেছিল, দাউদ ইব্রাহিমের সঙ্গে তাঁর নাম জড়ানোর পর ঠিক ততটাই দ্রুত তা অন্ধকারে তলিয়ে যায়। আজও বলিউড ইতিহাসের অন্যতম বড় বিতর্ক হিসেবে ধরা হয় দাউদ-মন্দাকিনী সংযোগকে।

সবকিছুর শুরু হয়েছিল শারজার এক ক্রিকেট স্টেডিয়াম থেকে। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে শারজায় একটি ম্যাচে গ্যালারিতে দাউদ ইব্রাহিমের ঠিক পাশেই বসে থাকতে দেখা যায় মন্দাকিনীকে। সেই ছবি দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে সংবাদমাধ্যমে। অভিযোগ ওঠে, আন্ডারওয়ার্ল্ড ডনের সঙ্গে তাঁর গভীর সম্পর্ক রয়েছে। এমনকি ‘বলিউড শাদিস’-এর একটি রিপোর্টে দাবি করা হয়, দাউদ স্বয়ং রাজ কাপুরকে ফোন করে মন্দাকিনীকে ছবিতে নেওয়ার জন্য সুপারিশ করেছিলেন। জল্পনা এখানেই থামেনি; শোনা যেত মন্দাকিনী ও দাউদ গোপনে বিয়ে করেছেন এবং দুবাইতে তাঁদের একটি সন্তানও রয়েছে।

এই বিতর্কের প্রভাব মন্দাকিনীর ক্যারিয়ারে পড়েছিল মারাত্মকভাবে। ১৯৯৩ সালের মুম্বই বিস্ফোরণের পর যখন দাউদ ইব্রাহিম ভারতের মোস্ট ওয়ান্টেড অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত হন, তখন মন্দাকিনীকে নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ক তাঁকে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি থেকে কার্যত একঘরে করে দেয়। নির্মাতারা তাঁর সঙ্গে কাজ করতে ভয় পেতেন। একের পর এক সিনেমা হাতছাড়া হতে থাকে তাঁর। ১৯৯৬ সালের পর তিনি পর্দা থেকে পুরোপুরি হারিয়ে যান।

তবে বছরের পর বছর ধরে মন্দাকিনী এই সমস্ত দাবি অস্বীকার করে এসেছেন। ‘মিড-ডে’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আমি চাই না মানুষ ওই ভয়ঙ্কর ঘটনার সঙ্গে আমার নাম জড়াক। দাউদের সঙ্গে আমার দেখা হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু তা ছিল নিছকই একটি সামাজিক অনুষ্ঠান। আমাদের মধ্যে কোনো প্রেমের সম্পর্ক ছিল না।” তিনি আরও জানান, মিডিয়ার লাগাতার আক্রমণে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন। সেই কঠিন সময়ে তাঁর পরিবারই ছিল একমাত্র সম্বল।

পরবর্তীতে মন্দাকিনী সম্পূর্ণ অন্য এক জীবন বেছে নেন। ১৯৯০ সালে তিনি ডঃ কাগ্যুর টি. রিনপোচে ঠাকুরকে বিয়ে করেন। মজার বিষয় হলো, তাঁর স্বামী বিয়ের আগে দীর্ঘ সময় বৌদ্ধ সন্ন্যাসী হিসেবে জীবন কাটিয়েছিলেন। আধ্যাত্মিকতার পথে হেঁটে মন্দাকিনী দলাই লামার শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন। বর্তমানে তিনি মুম্বইতে তিব্বতি যোগব্যায়াম এবং হার্বাল সেন্টারের মাধ্যমে শান্তিময় জীবন অতিবাহিত করছেন। দাউদ-অধ্যায়কে পিছনে ফেলে তিনি এখন একজন স্নেহময়ী মা এবং স্ত্রী হিসেবেই খুশি।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy