আজকের গ্ল্যামার দুনিয়ায় সামান্থা রুথ প্রভু একটি ব্র্যান্ডের নাম। বড় বাজেটের ছবি থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক মানের ওয়েব সিরিজ— সর্বত্রই তাঁর জয়জয়কার। কিন্তু রুপোলি পর্দার এই ঝকঝকে জীবনের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক সাধারণ মধ্যবিত্ত মেয়ের হাড়ভাঙা খাটুনি আর চরম লড়াইয়ের ইতিহাস। দক্ষিণ ভারতের এই সুপারস্টার আজ যেখানে দাঁড়িয়ে আছেন, সেখানে পৌঁছানোর রাস্তাটা মোটেও পুষ্পশয্যা ছিল না।
সামান্থার জন্ম ও বেড়ে ওঠা চেন্নাইয়ের পল্লবরাম এলাকায়। তাঁর বাবা-মা আদতে মালয়ালি হলেও চেন্নাইকেই আপন করে নিয়েছিলেন। এক সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারে বড় হওয়া সামান্থা ছোট থেকেই জানতেন যে, অভাব মেটানোর একমাত্র চাবিকাঠি হলো কঠোর পরিশ্রম। কোনো ফিল্মি ব্যাকগ্রাউন্ড বা গডফাদার ছাড়াই তিনি এই ইন্ডাস্ট্রিতে পা রাখেন। আর্থিক অনটনের কারণে পড়াশোনার পাশাপাশি তাঁকে পার্ট-টাইম মডেলিং করতে হতো। এমনকি অনেক সময় পকেটে পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় তাঁকে কঠিন পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হয়েছে, যা তিনি বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে আবেগভরে স্মৃতিচারণ করেছেন।
সামান্থার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে ভক্তদের আগ্রহের শেষ নেই। তবে জানেন কি, তাঁর এক বিশেষ ডাকনাম রয়েছে? তাঁর কাছের মানুষেরা তাঁকে ভালোবেসে ‘যশোদা’ বলে ডাকেন। কাকতালীয়ভাবে, ২০২২ সালে তিনি যখন ‘যশোদা’ নামক একটি থ্রিলার ছবিতে অভিনয় করেন, তখন এই নামের সমাপতন দেখে ভক্তরা চমকে গিয়েছিলেন। এই ব্যক্তিগত যোগসূত্রটি ছবির প্রচারেও এক অন্য মাত্রা যোগ করেছিল।
‘ইয়ে মায়া চেসাভে’ দিয়ে শুরু হওয়া সেই সফর আজ ‘ইগা’, ‘মার্সাল’, ‘সুপার ডিলাক্স’ হয়ে ‘দ্য ফ্যামিলি ম্যান ২’-এর মতো মাইলফলক স্পর্শ করেছে। সম্প্রতি ‘সিটাডেল: হানি বানি’ সিরিজে তাঁর অভিনয় আন্তর্জাতিক স্তরে প্রশংসিত হয়েছে। আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা পেলেও সামান্থা আজও তাঁর শিকড় ভোলেননি। সাধারণ যাপন আর নিজের সংগ্রামের কথা অকপটে স্বীকার করেই তিনি আজ কোটি কোটি মানুষের অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছেন।





