টলিউডের আকাশে কালো মেঘ নেমে এসেছিল ঠিক এক মাস আগে। গত ২৯ মার্চ শুটিং সেটে থাকাকালীন আকস্মিক মৃত্যু হয়েছিল প্রতিভাধর অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তাঁর এই অকাল প্রয়াণ মেনে নিতে পারেনি টলিপাড়া থেকে শুরু করে সাধারণ অনুরাগীরা। রাহুলের মৃত্যুর পর তাঁর স্ত্রী, অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকার এফআইআর দায়ের করেছিলেন, যা নিয়ে আইনি জট এখনও অব্যাহত। তবে রাহুলের চলে যাওয়ার এক মাস পূর্ণ হতেই ব্যক্তিগত শোক আর বন্ধুত্বের না বলা কথা নিয়ে মুখ খুললেন প্রিয়াঙ্কা।
টিভি৯ বাংলাকে দেওয়া একটি সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে প্রিয়াঙ্কা অত্যন্ত আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। রাহুলকে হারানোর যন্ত্রণা কি তিনি অনুভব করছেন? এই প্রশ্নের উত্তরে প্রিয়াঙ্কা জানান, তাঁর জীবন থেকে শুধু এক জন অভিনেতা বা জীবনসঙ্গী নয়, বরং ২০-২২ বছরের এক গভীর বন্ধুত্ব হারিয়ে গিয়েছে। প্রিয়াঙ্কার কথায়, “আমি আমার সবচেয়ে প্রিয় বন্ধুকে হারিয়ে ফেলেছি। সব কিছুর ঊর্ধ্বে আমাদের সম্পর্কের মূল ভিত্তি ছিল এই দীর্ঘ সময়ের বন্ধুত্ব।”
রাহুল ও প্রিয়াঙ্কার সম্পর্কের চড়াই-উতরাই সম্পর্কে সাধারণ মানুষ ওয়াকিবহাল। কখনও তাঁদের গভীর প্রেম, কখনও আবার তিক্ত বিচ্ছেদ শিরোনামে উঠে এসেছে। কিন্তু প্রিয়াঙ্কা স্পষ্ট করে দেন যে, লোকচক্ষুর আড়ালে তাঁদের যোগাযোগ ও গল্প কখনও থামেনি। প্রিয়াঙ্কা কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে বলেন, “আমার সিনেমা দেখা, বই পড়া বা জীবন নিয়ে চিন্তাভাবনা করা—সবই রাহুলের প্রভাবে। ও ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে বড় পথপ্রদর্শক এবং সমালোচক।” অভিনেত্রী আরও যোগ করেন যে, রাহুলের বেছে দেওয়া চার-পাঁচটি সিনেমা এবং সিরিজ এখনও দেখা বাকি আছে তাঁর, যা আজ কেবল স্মৃতি হয়ে রয়ে গেল।
অনেকেই মনে করেছিলেন তাঁদের মধ্যে মুখ দেখাদেখি বন্ধ, কিন্তু প্রিয়াঙ্কা জানালেন তাঁদের মধ্যে শেষ পর্যন্ত ভালো বই আর সিনেমা নিয়ে আড্ডা চলত। কাজের ক্ষেত্রে রাহুলের থেকে পাওয়া ‘সৎ ফিডব্যাক’ তিনি সবচেয়ে বেশি মিস করবেন। উল্লেখ্য, আগামী ১৫ মে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম ‘হইচই’-তে মুক্তি পেতে চলেছে প্রিয়াঙ্কা সরকারের নতুন ওয়েব সিরিজ ‘কুহেলি’। কিন্তু এই সাফল্যের মুহূর্তে পাশে নেই তাঁর সবচেয়ে বড় সমালোচক রাহুল, আর এটাই অভিনেত্রীর কাছে সবচেয়ে বড় আক্ষেপ।





