রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার আগেই আইনি লড়াইয়ে সরগরম কলকাতা হাইকোর্ট। ভোট গণনা প্রক্রিয়া নিয়ে নির্বাচন কমিশনের জোড়া নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন তৃণমূল সাংসদ তথা বর্ষীয়ান আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং আইনজীবী বিশ্বরূপ ভট্টাচার্য। কমিশনের পক্ষপাতিত্ব এবং এক্তিয়ার বহির্ভূত কাজের অভিযোগ তুলে বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের এজলাসে জরুরি শুনানির আর্জি জানানো হয়েছে।
মামলাকারী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মূল অভিযোগ, ভোট গণনাকেন্দ্রে কাউন্টিং সুপারভাইজার নিয়োগের ক্ষেত্রে নজিরবিহীন বৈষম্য করছে নির্বাচন কমিশন। তাঁর দাবি, চিফ ইলেক্টোরাল অফিসার (CEO) নির্দেশ জারি করেছেন যে, গণনাকেন্দ্রে সুপারভাইজার হিসেবে শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদেরই নিয়োগ করা হবে। রাজ্য সরকারি কর্মীদের ব্রাত্য রেখে কেন শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় কর্মীদের ওপর ভরসা করা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। কল্যাণের সাফ কথা, “এ ধরনের নির্দেশ জারি করার কোনও এক্তিয়ার চিফ ইলেক্টোরাল অফিসারের নেই। তাছাড়া, এই বিশেষ নিয়ম কেন শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গের জন্যই কার্যকর করা হলো?” বিষয়টি নিয়ে তিনি বিচারপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত শুনানির আবেদন জানান।
অন্যদিকে, আইনজীবী বিশ্বরূপ ভট্টাচার্য গণনাকেন্দ্রের স্থান পরিবর্তন নিয়ে দ্বিতীয় মামলাটি দায়ের করেছেন। তাঁর অভিযোগ, শেষ মুহূর্তে কোনো সদুত্তর ছাড়াই গণনাকেন্দ্রের জায়গা বদলে দেওয়া হচ্ছে, যা গোটা প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করাচ্ছে। বিচারপতি কৃষ্ণা রাও দুটি মামলারই গুরুত্ব বিবেচনা করে দ্রুত শুনানির অনুমতি দিয়েছেন। আজ দুপুর ২টোর সময় এই হাইভোল্টেজ মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে।
উল্লেখ্য, রাজ্যে দুই দফায় (২৩ ও ২৯ এপ্রিল) মোট ২৯৪টি আসনে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ৪ মে ভাগ্যপরীক্ষা। তার আগে কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে সুর চড়িয়েছেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। এর আগে ‘ট্রাবল মেকার’ তালিকা এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়েও সরব হয়েছিলেন তিনি। আদালতে আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “তৃণমূলের নির্বাচনী এজেন্টকে নিয়ে থানায় গেলে ওসির যে আচরণ দেখেছি, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এমনকি ফিরহাদ হাকিমের বাড়িতেও কেন্দ্রীয় বাহিনী পাঠানো হয়েছে। কমিশন আসলে কাদের হয়ে কাজ করছে?” ভোট গণনার মাত্র কয়েকদিন আগে হাইকোর্টের এই শুনানি নির্বাচনী ফলাফল এবং পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।





