২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন কি তবে বাংলার ইতিহাসে এক নতুন নজির সৃষ্টি করতে চলেছে? দ্বিতীয় দফার ভোট গ্রহণ শেষ হতেই রাজনৈতিক মহলে এখন একটাই গুঞ্জন। বুধবার ভোটদানের যে হার সামনে এসেছে, তা কেবল বর্তমান শাসক বা বিরোধী শিবিরকেই নয়, চমকে দিয়েছে ঝানু ভোট বিশেষজ্ঞদেরও। পরিসংখ্যান বলছে, ২০১১ সালে যে পরিবর্তনের ঝড়ে বাম শাসনের পতন হয়েছিল, সেই সময়ের ভোটদানের রেকর্ডকেও এ বার ছাপিয়ে গিয়েছে ২০২৬-এর দ্বিতীয় দফা।
রেকর্ড ভাঙা ভোটদানের হার
নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় দফার শেষে রাজ্যে ভোটদানের হার দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯২.৪৭ শতাংশ। উল্লেখ্য, ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে সারা রাজ্যে গড় ভোটদানের হার ছিল প্রায় ৮৪.৭ শতাংশ। অর্থাৎ, পরিবর্তনের সেই ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণের চেয়েও এবার অনেক বেশি মানুষ বুথমুখী হয়েছেন। বিশেষ করে দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে উপচে পড়া ভিড় এবং শান্তিপূর্ণভাবে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দেওয়ার ছবি শাসক ও বিরোধী— উভয় পক্ষকেই নতুন করে ভাবাচ্ছে।
কোন জেলায় কেমন ভোট?
পূর্ব বর্ধমান: ভোটের হারে শীর্ষে রয়েছে এই জেলা, শতাংশের নিরিখে যা প্রায় ৯৩.৪৮ শতাংশ।
উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা: তৃণমূলের এই শক্ত ঘাঁটিতেও রেকর্ড ৯০ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে।
কলকাতা দক্ষিণ ও ভবানীপুর: খোদ মুখ্যমন্ত্রীর কেন্দ্রেও ভোটদানের হার আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
তাত্ত্বিকদের চুলচেরা বিশ্লেষণ
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাধারণত যখনই ভোটদানের হার অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যায়, তখনই রাজ্যে কোনো ‘নিভৃত ঢেউ’ বা পরিবর্তনের ইঙ্গিত থাকে। ২০১১ সালেও একই ছবি দেখা গিয়েছিল। তবে বর্তমান শাসক শিবিরের দাবি, কড়া রোদেও মানুষের এই বিপুল অংশগ্রহণ আসলে সরকারের উন্নয়নমূলক প্রকল্পের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থার প্রতিফলন। অন্যদিকে, বিরোধী শিবির তথা বিজেপির দাবি, দুর্নীতি এবং সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের ক্ষোভই ইভিএমে আছড়ে পড়েছে।
কমিশনের কড়া নজরদারি: কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া প্রহরা এবং ভোটার তালিকার শুদ্ধিকরণের ফলে এবার ‘ভুয়া ভোটার’ আটকানো সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছে কমিশন। নির্বাচন কমিশনের এক আধিকারিকের কথায়, “ভোটাররা সচেতন হয়েছেন এবং নির্ভয়ে ভোট দিতে পারছেন, যা এই উচ্চ শতাংশের প্রধান কারণ।”
ফলপ্রকাশ হতে এখনও কয়েক দিন বাকি। তবে ২০২৬-এর এই ‘সুনামি’ ভোট কার ভাগ্যে শিকে ছিঁড়বে— তা নিয়ে এখন উত্তাল বাংলার চায়ের আড্ডা থেকে শুরু করে সোশ্যাল মিডিয়া।





