মঙ্গলবার পয়লা বৈশাখের দুপুরে উত্তরবঙ্গের মাটিতে দাঁড়িয়ে শাসক দল তৃণমূল এবং প্রধান বিরোধী দল বিজেপি—দুই পক্ষকেই কার্যত ধুয়ে দিলেন রাহুল গান্ধী। রায়গঞ্জ এবং মালদার জনসভা থেকে রাহুলের হুঙ্কার, “বামেরা শেষ করেছিল, আর তৃণমূল ধ্বংস করেছে বাংলার শিল্প। আর অন্যদিকে বিজেপি তো সংবিধানই বদলে দিতে চায়!” প্রশ্ন উঠছে, তৃণমূল ও বিজেপির এই দ্বিমুখী লড়াইয়ে ক্লান্ত ভোটারদের কাছে কংগ্রেস কি এবার সত্যিই বিকল্প হয়ে উঠছে?
জনসভায় রাহুলের আক্রমণের মূল পয়েন্টগুলো: ১. দুর্নীতির অভিযোগ: সারদা ও রোজভ্যালির প্রসঙ্গ টেনে রাহুল বলেন, “মোদীজি তো দুর্নীতিবাজ বটেই, কিন্তু তৃণমূলও এই দৌড়ে পিছিয়ে নেই। ১৭ লক্ষ মানুষের জমানো টাকা এখনও ফেরত দেয়নি তারা।” ২. বেকারত্ব নিয়ে তোপ: মুখ্যমন্ত্রী ৫ লক্ষ চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, কিন্তু বর্তমানে ৮৪ লক্ষ যুবক বেকার ভাতার জন্য আবেদন করেছেন। এই তথ্য তুলে ধরে তিনি তৃণমূলের কর্মসংস্থান নীতিকে তীব্র আক্রমণ করেন। ৩. বিজেপি ও আরএসএস-কে নিশানা: আরএসএস-এর আদর্শ দেশকে ভাগ করছে বলে অভিযোগ তুলে রাহুল বলেন, “তৃণমূল আর বিজেপি আসলে মুদ্রার দুই পিঠ।”
কংগ্রেসের ‘৫ গ্যারান্টি’ কি তুরুপের তাস? রাহুল গান্ধী স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ২০২৬-এর নির্বাচনে কংগ্রেসের বাজি হবে তাদের ঘোষিত ৫টি গ্যারান্টি:
মহিলাদের মাসে ২০০০ টাকা: যা তৃণমূলের বর্তমান প্রকল্পকেও টেক্কা দিতে পারে।
বিনামূল্যে শিক্ষা: স্নাতক পর্যন্ত সবার জন্য এবং মহিলাদের জন্য স্নাতকোত্তর (PG) পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষা।
২০০ ইউনিট ফ্রি বিদ্যুৎ: সাধারণ মানুষের পকেটের চাপ কমাতে এই বড় ঘোষণা।
কৃষক বন্ধু: কৃষকদের জন্য বার্ষিক ১৫,০০০ টাকা আর্থিক সহায়তা।
কর্মসংস্থান: সরকারি শূন্যপদ পূরণ ও জেলায় জেলায় এআই (AI) স্কিল সেন্টার।
ভোটারদের মনোভাব: রাজনৈতিক মহলের মতে, গত বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের ঝুলিতে কোনো আসন না থাকলেও, এবার রাহুল গান্ধীর এই আগ্রাসী মনোভাব এবং সরাসরি নগদ টাকা হস্তান্তরের প্রতিশ্রুতি গ্রামীণ ভোটারদের মনে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের শক্ত ঘাঁটিগুলোতে কংগ্রেস তাদের হারানো জমি ফিরে পেতে মরিয়া।
ভোটের লড়াই এখন তৃণমূল বনাম বিজেপি নাকি কংগ্রেস এই দুই শক্তিকে সরিয়ে নতুন বিকল্প হিসেবে উঠে আসবে, তার উত্তর মিলবে আগামী ৪ মে ফলাফল প্রকাশের দিন।





