বিশ্ব রাজনীতিতে বড়সড় রদবদল। দীর্ঘদিনের কৌশলগত মিত্র ইজরায়েলের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি বাতিলের ঘোষণা করল ইতালি। প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে আন্তর্জাতিক মহলে তোলপাড় শুরু হয়েছে। যেখানে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় পশ্চিমী দেশগুলি ইজরায়েলের পাশে দাঁড়াচ্ছে, সেখানে ইতালির এই পিছুটান নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
চুক্তি বাতিলের নেপথ্যে কী? সূত্রের খবর, গাজা এবং লেবাননে ইজরায়েলি সামরিক অভিযানের তীব্রতা এবং বাড়তে থাকা বেসামরিক মৃত্যু নিয়ে ইতালির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে চাপ বাড়ছিল। তবে কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্তের পেছনে কেবল যুদ্ধ নয়, লুকিয়ে রয়েছে অন্য এক নাম— ডোনাল্ড ট্রাম্প।
মেলোনি-ট্রাম্প সম্পর্কের অবনতি? একসময় ট্রাম্পের কট্টর সমর্থক হিসেবে পরিচিত ছিলেন মেলোনি। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি এবং ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপর প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত চাপের ফলে রোম ও ওয়াশিংটনের মধ্যে এক অদৃশ্য দেওয়াল তৈরি হয়েছে। জল্পনা ছড়িয়েছে যে, ট্রাম্পের কিছু সাম্প্রতিক কূটনৈতিক পদক্ষেপে ক্ষুব্ধ হয়েই মেলোনি ইজরায়েলের সঙ্গে এই বড় প্রতিরক্ষা চুক্তি থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
প্রভাব পড়তে পারে বিশ্ব রাজনীতিতে: ইতালির মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ ন্যাটো (NATO) সদস্য দেশ ইজরায়েলের থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ায় চাপে পড়তে পারেন বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। একদিকে ট্রাম্পের প্রত্যাবর্তন আর অন্যদিকে ইউরোপীয় শক্তিগুলোর এই অবস্থান বদল— সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের রণকৌশল এখন কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই দেখার।
ইতালির এই সিদ্ধান্ত কি কেবল একটি চুক্তি বাতিল, নাকি ট্রাম্প ও মেলোনির বন্ধুত্বের চিরস্থায়ী ফাটল? উত্তর খুঁজছে গোটা বিশ্ব।





