বিহারের রাজনীতিতে এক দীর্ঘ অধ্যায়ের অবসান ঘটল। মঙ্গলবার বিকেলে পাটনার লোক ভবনে রাজ্যপাল লেফট্যানেন্ট জেনারেল সৈয়দ আতা হাসনাইনের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিলেন নীতীশ কুমার। গত দুই দশক ধরে বিহারের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা নীতীশের বিদায়ের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বড় ঘোষণা করল বিজেপি। বিহারের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হতে চলেছেন রাজ্যের বর্তমান উপ-মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধরি। বিহারের ইতিহাসে এই প্রথমবার কোনো বিজেপি নেতা সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে বসতে চলেছেন।
কেন ইস্তফা দিলেন নীতীশ?
নাটকীয় কোনো সংঘাত নয়, বরং নীতীশ কুমারের এই বিদায় কিছুটা পরিকল্পিত। গত সপ্তাহে তিনি রাজ্যসভার সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। তাই নিয়ম অনুযায়ী মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে তিনি এখন জাতীয় রাজনীতিতে বড় কোনো ভূমিকার দিকে এগোচ্ছেন। ইস্তফা দেওয়ার আগে তিনি তাঁর শেষ মন্ত্রিসভার বৈঠক করেন এবং ‘সুশাসন বাবু’ হিসেবে তাঁর দীর্ঘ সফরের কথা স্মরণ করেন।
বিতর্কিত অতীত: খুনের মামলা ও ডক্টরেট ডিগ্রি
সম্রাট চৌধরির নাম ঘোষণার সাথে সাথেই তাঁর রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে। বিহারের কুশওয়াহা সম্প্রদায়ের এই প্রভাবশালী নেতার অতীত ঘিরে রয়েছে একাধিক বিতর্ক:
খুনের মামলার ছায়া: ১৯৯৮ সালে তাঁর রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী সদানন্দ সিংকে বোমা মেরে হত্যার অভিযোগে সম্রাটের নাম জড়িয়েছিল। বিরোধীরা প্রায়ই এই ‘ক্রিমিনাল হিস্ট্রি’ নিয়ে তাঁকে আক্রমণ করেন।
শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন: সম্রাট চৌধরি দাবি করেন তাঁর ক্যালিফোর্নিয়া পাবলিক ইউনিভার্সিটি থেকে ‘ডক্টরেট’ ডিগ্রি রয়েছে। তবে প্রশান্ত কিশোর এবং তেজস্বী যাদবরা দাবি করেছেন, তিনি আদতে ‘ম্যাট্রিক ফেল’ এবং তাঁর ডিগ্রি ভুয়ো।
বিহারে কি এবার বিজেপির একক রাজত্ব?
২০২৫ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ৮৯টি আসন জিতে বিজেপি বর্তমানে বিহারের বৃহত্তম দল। নীতীশের সরে দাঁড়ানোয় এবং সম্রাট চৌধরির অভিষেকে বিহারে সমাজতান্ত্রিক রাজনীতির বদলে সরাসরি ‘গেরুয়া মডেল’ চালুর সম্ভাবনা দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। আগামী কালই রাজভবনে বিহারের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে পারেন সম্রাট।
উপসংহার: অপরাধের অভিযোগ আর রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার এক মিশ্র ভাবমূর্তি নিয়ে বিহারের রাশ ধরছেন সম্রাট চৌধরি। নীতীশ পরবর্তী বিহারে তিনি কতটা ‘সুশাসন’ বজায় রাখতে পারেন, এখন সেটাই দেখার বিষয়।





