চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাসে বিরল ও ভয়াবহ এক গাফিলতির সাক্ষী থাকল উত্তরপ্রদেশ। জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে অ্যাম্বুল্যান্সের ভেতরেই এক আশাকর্মীর অদক্ষতা ও জোরপূর্বক প্রসবের চেষ্টায় প্রাণ হারাল এক নবজাতক। অভিযোগ, আশাকর্মী নিজে থেকে প্রসব করানোর সময় এতটাই জোরে টানাহেঁচড়া করেন যে, শিশুটির দেহটি ছিঁড়ে বেরিয়ে এলেও মাথাটি মায়ের গর্ভেই বিচ্ছিন্ন অবস্থায় আটকে থাকে।
ঘটনার বিবরণ: পারিবারিক সূত্রের খবর, প্রসব যন্ত্রণা শুরু হলে প্রেমা দেবী নামে ওই অন্তঃসত্ত্বা মহিলাকে অ্যাম্বুল্যান্সে করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। ওই সময় অ্যাম্বুল্যান্সে কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ছিলেন না। অভিযোগ, সঙ্গে থাকা আশাকর্মী কোনো নির্দেশ ছাড়াই প্রেমা দেবীকে ব্যথানাশক ইনজেকশন দেন এবং জোর করে প্রসব করানোর চেষ্টা করেন। প্রসবের সময় শিশুটির দেহ বাইরে এলেও মাথাটি আটকে যায় এবং আশাকর্মীর প্রবল হ্যাঁচকা টানে শরীর থেকে মাথাটি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
উত্তেজনা ও তদন্ত: এই ঘটনার পর ওই প্রসূতির অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে পড়ে। পরে তাঁকে দ্রুত শাহজাহানপুর জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে চিকিৎসকরা অস্ত্রোপচার করে নবজাতকের মাথাটি গর্ভ থেকে বের করেন। বর্তমানে ওই মহিলার অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর মৃত শিশুর বাবা স্থানীয় থানায় আশাকর্মীর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুলিশ অভিযুক্ত আশাকর্মীর সন্ধানে তল্লাশি শুরু করেছে এবং গোটা ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে জেলা স্বাস্থ্য দফতর।
পেশাদার এডিটোরিয়াল নোট: প্রশিক্ষিত চিকিৎসক বা নার্স ছাড়া প্রসব করানো কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, এই ঘটনা তারই জ্বলন্ত উদাহরণ। দুর্গম এলাকায় বা যাতায়াতের সময় আশাকর্মীদের দায়িত্ব কেবল সহায়তা করা, কিন্তু চিকিৎসকের ভূমিকা পালন করতে গিয়ে এই ধরনের ভয়ংকর প্রাণহানি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।





