“একজনকে ধরলে ১০০০ জন বেরোবে!” আই-প্যাক কাণ্ডে এজেন্সি-বিজেপিকে প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ মমতার

নির্বাচনী আবহে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা বা এজেন্সির অতি-সক্রিয়তাকে ঘিরে মঙ্গলবার জগৎবল্লভপুরের সভা থেকে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আই-প্যাক (I-PAC) কর্তা বিনেশ চান্ডেলের গ্রেফতারি এবং একের পর এক নেতাকে তলবের ঘটনায় যখন রাজ্য রাজনীতি উত্তপ্ত, ঠিক সেই মুহূর্তেই মমতার এই মন্তব্যকে অত্যন্ত ‘তাৎপর্যপূর্ণ’ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী? এদিন জনসভা থেকে তৃণমূল নেত্রী সরাসরি দিল্লির বিজেপি সরকারকে নিশানা করে বলেন:

“ওরা ভাবছে দু-একজনকে গ্রেফতার করলেই তৃণমূল ভয় পাবে। কিন্তু ওরা জানে না, একজনকে ধরলে এক হাজার জন নতুন করে পথে বেরোবে। বাংলার মানুষকে ভয় দেখিয়ে দমিয়ে রাখা সম্ভব নয়।”

মন্তব্যের রাজনৈতিক তাৎপর্য: রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মমতার এই বার্তার পিছনে দুটি মূল উদ্দেশ্য রয়েছে:

  • কর্মী-সমর্থকদের মনোবল চাঙ্গা করা: ভোটের মুখে দলের থিঙ্ক-ট্যাঙ্ক বা নেতাদের ওপর আক্রমণ নেমে এলে নিচুতলার কর্মীদের মধ্যে যাতে ভীতি দানা না বাঁধে, তার জন্যই এই ‘প্রতিরোধের’ বার্তা।

  • জনগণকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার: তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে, তৃণমূল কেবল কয়েকজন নেতার দল নয়, এটি একটি জনআন্দোলন। ফলে নেতাদের সরালেও জনসমর্থন কমবে না।

তৃণমূলের প্রতিরোধের মেজাজ: এদিন মমতা আবারও মনে করিয়ে দেন যে, ২০২৬-এর নির্বাচন কেবল ক্ষমতার লড়াই নয়, এটি বাংলার ‘অস্মিতা’ ও ‘অধিকার’ রক্ষার লড়াই। তাঁর মতে, যত বেশি এজেন্সি দিয়ে চাপ সৃষ্টি করা হবে, তৃণমূলের জয়ের মার্জিন ততই বাড়বে।

পেশাদার এডিটোরিয়াল নোট: মমতার এই “এক বনাম হাজার” তত্ত্বটি অতীতেও কাজ করেছে। বিশেষ করে সিঙ্গুর বা নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সময় তিনি এই ধরনের মেজাজে ধরা দিতেন। এবার ২০২৬-এর ভোটের আগে এজেন্সিকে ঢাল করে তিনি কি ফের একবার সহমর্মিতার হাওয়া নিজের পালে টানতে চাইছেন? সেটাই এখন দেখার বিষয়।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy