দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে সংবিধান প্রণেতা ড. বি. আর. আম্বেদকরের জন্মজয়ন্তী। আর এই বিশেষ দিনেই দেশের রাজধানী দিল্লিতে ধরা পড়ল এক ইতিবাচক রাজনৈতিক ছবি। আজ, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, সংসদ চত্বরে বাবাসাহেব আম্বেদকরের মূর্তিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করার সময় সৌজন্য বিনিময় করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কংগ্রেস সভাপতি তথা রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে।
শ্রদ্ধার্ঘ্য ও সৌজন্য বিনিময়: সকালে সংসদ ভবনের লনে আম্বেদকরের মূর্তিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন প্রধানমন্ত্রী। ঠিক সেই সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন মল্লিকার্জুন খাড়গে সহ অন্যান্য শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ। রাজনৈতিক তিক্ততা সরিয়ে রেখে দুই নেতাকে একে অপরের সাথে করমর্দন ও কুশল বিনিময় করতে দেখা যায়। জাতীয় রাজনীতির বর্তমান পরিস্থিতিতে এই সৌজন্যের ছবি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।
আলোচনায় নারী সংরক্ষণ বিল: সূত্রের খবর, এই সংক্ষিপ্ত সাক্ষাতে উঠে এসেছে নারী সংরক্ষণ বিলের কার্যকারিতা ও তা বাস্তবায়নের প্রসঙ্গ। দেশের নারীদের ক্ষমতায়নে এই বিলের প্রয়োজনীয়তা এবং ভবিষ্যতে এর প্রয়োগ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদী ও খাড়গের মধ্যে কিছু গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। সংবিধান দিবসের পবিত্র আবহে দেশের নারীশক্তির অধিকার নিয়ে এই আলোচনা এক বিশেষ মাত্রা যোগ করেছে।
সংবিধানের গুরুত্ব স্মরণ: এদিন টুইট করে (বর্তমানে X) প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে আম্বেদকর জয়ন্তীর শুভেচ্ছা জানান। তিনি লেখেন, “বাবাসাহেব কেবল আমাদের সংবিধান দেননি, তিনি দিয়েছিলেন সাম্য ও ন্যায়ের এক শক্তিশালী দর্শন।” অন্যদিকে খাড়গেও আম্বেদকরের আদর্শে দেশ গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
পেশাদার এডিটোরিয়াল নোট: নির্বাচন যত এগিয়ে আসে, শাসক ও বিরোধী শিবিরের সংঘাত ততই বৃদ্ধি পায়। তবে আম্বেদকর জয়ন্তীর মতো জাতীয় উৎসবের দিনে শীর্ষ স্তরের দুই নেতার এই সৌজন্য বিনিময় প্রমাণ করে যে, গণতন্ত্রে মতভেদ থাকলেও পারস্পরিক শ্রদ্ধার জায়গাটি এখনও অমলিন।





