বিহারের রাজনীতিতে দীর্ঘ কয়েক দশকের এক ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল। আজ, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, রাজভবনে গিয়ে রাজ্যপাল লেফটেন্যান্ট জেনারেল সৈয়দ আতা হাসনাইনের (অবসরপ্রাপ্ত) কাছে নিজের ইস্তফাপত্র জমা দিলেন দীর্ঘতম সময়ের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার। আর তাঁর পদত্যাগের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নাম ঘোষণা করা হয়েছে বর্তমান উপ-মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরীর।
কেন এই হঠাৎ পরিবর্তন? নীতীশ কুমারের রাজ্যসভায় নির্বাচিত হওয়া এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সমীকরণের বদল এই পটপরিবর্তনের প্রধান কারণ। গত সপ্তাহেই নীতীশ কুমার রাজ্যসভার সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই জল্পনা চলছিল যে, তিনি বিহারের প্রশাসনিক দায়িত্ব ছেড়ে কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে মনোনিবেশ করতে পারেন। আজ খরমাস কাটতেই সেই জল্পনায় শিলমোহর পড়ল।
বিহারে প্রথমবার বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী: সম্রাট চৌধুরীর নাম ঘোষণা হওয়া মাত্রই বিহার বিজেপির অন্দরে খুশির হাওয়া। বিহারের ইতিহাসে এই প্রথমবার এককভাবে বিজেপির কোনও নেতা মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে চলেছেন। এর আগে বিজেপি সবসময়ই জেডিইউ-র (JD-U) সাথে জোট বেঁধে দ্বিতীয় শক্তি হিসেবে কাজ করেছে।
কে এই সম্রাট চৌধুরী? সম্রাট চৌধুরী বিহারের কুশওয়াহা (কোয়েরি) সম্প্রদায়ের এক প্রভাবশালী মুখ। রাজনৈতিক মহলের মতে, ওবিসি (OBC) ভোটব্যাঙ্ক অটুট রাখতে এবং ২০২৬-এর পরবর্তী চ্যালেঞ্জগুলোর মোকাবিলায় সম্রাট চৌধুরীর ওপরই আস্থা রাখল দিল্লি।
রাজনৈতিক তোলপাড়: বিপক্ষ শিবির আরজেডি (RJD) ও কংগ্রেস এই রদবদল নিয়ে সরব হয়েছে। তেজস্বী যাদব শিবির থেকে আক্রমণ শানিয়ে বলা হয়েছে, “জনগণের ম্যান্ডেটকে অপমান করে ব্যাকডোর দিয়ে ক্ষমতা দখল করছে বিজেপি।” অন্যদিকে, নীতীশ কুমার ইস্তফা দিয়ে জানিয়েছেন, “আমরা প্রধানমন্ত্রী মোদীর নেতৃত্বে বিহারের উন্নয়নের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাব।”
পেশাদার এডিটোরিয়াল নোট: নীতীশ কুমারের প্রস্থান কেবল বিহার নয়, জাতীয় রাজনীতিতেও বড় প্রভাব ফেলতে চলেছে। এখন দেখার, সম্রাট চৌধুরীর নেতৃত্বে ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকার বিহারের উন্নয়নের গতি কতটা বাড়াতে পারে।





