ভারতীয় সঙ্গীত জগতের ধ্রুবতারা তিনি। কখনও তিনি চঞ্চল, কখনও গম্ভীর, আবার কখনও চূড়ান্ত রোমান্টিক। তিনি আশা ভোঁসলে। দশকের পর দশক ধরে নিজের কণ্ঠের জাদুতে আসমুদ্রহিমাচলকে মন্ত্রমুগ্ধ করে রেখেছেন এই কিংবদন্তি। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড থেকে শুরু করে দাদাসাহেব ফালকে— তাঁর ঝুলিতে রয়েছে অগুনতি সম্মান, কিন্তু তাঁর আসল সম্পদ হলো কোটি কোটি শ্রোতার ভালোবাসা।
বহুমুখী প্রতিভার অনন্য উদাহরণ: আশা ভোঁসলে মানেই বৈচিত্র্য। দিদি লতা মঙ্গেশকরের ধ্রুপদী ঘরানার বিপরীতে তিনি তৈরি করেছিলেন নিজস্ব এক ধারা। রাহুল দেব বর্মন (আর ডি বর্মন)-এর সুরে তাঁর গাওয়া পশ্চিমী ধাঁচের গান যেমন তরুণ প্রজন্মকে নাচিয়েছে, তেমনই ওমপ্রকাশ নায়ারের সুরে তাঁর গজল বা ভজন শ্রোতাদের চোখে জল এনেছে। ১৬ হাজারেরও বেশি গান গেয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন, স্টুডিওর চার দেওয়ালে তিনি এক অদম্য শক্তি।
বাংলা গানের সঙ্গে নিবিড় যোগ: কেবল হিন্দি নয়, বাংলা আধুনিক এবং সিনেমার গানেও আশার অবদান অনস্বীকার্য। ‘এই মায়াবী তিথি’, ‘ঝড় উঠেছে বাউল বাতাস’, কিংবা ‘কথা দিয়েও এলে না’— তাঁর প্রতিটি বাংলা গান আজও বাঙালির ড্রয়িংরুমে নস্টালজিয়া জাগিয়ে তোলে। মান্না দে থেকে হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, তৎকালীন সকল কিংবদন্তির সঙ্গেই তাঁর ডুয়েট আজও এভারগ্রিন।
চিরযৌবনা কণ্ঠের উত্তরাধিকার: আজকের রিমিক্সের যুগেও আসল গানের মাহাত্ম্য যে কমেনি, তা আশা ভোঁসলেকে দেখলেই বোঝা যায়। বর্তমান প্রজন্মের রিয়েলিটি শো থেকে শুরু করে বড় পর্দার প্লেব্যাক— সর্বত্রই তাঁর স্টাইল অনুকরণ করার চেষ্টা চলে। সুরের এই ‘পাওয়ার হাউস’ ৯০ বছর পার করেও আজও যেন সেই ১৬ বছরের কিশোরীর মতো প্রাণোচ্ছ্বল।
ভারতীয় সঙ্গীত যতদিন থাকবে, আশা ভোঁসলের সুরের ইন্দ্রজাল ঠিক একইভাবে নতুন নতুন প্রজন্মকে আবিষ্ট করে রাখবে।





