গানের ভুবনে এক মহীরুহের পতন। ৮ দশকের দীর্ঘ কেরিয়ারে যবনিকা টেনে বিদায় নিলেন সুরের জাদুকরী আশা ভোঁসলে। সোহিনী চক্রবর্তীর প্রতিবেদনে উঠে এল এক বিরল জীবনগাথা, যেখানে সুরের পাশে লড়াই ছিল নিত্যসঙ্গী। গজল থেকে ডান্স নাম্বার— সব ঘরানাতেই তিনি ছিলেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী ‘পাওয়ার পারফর্মার’।
৮ দশকের অবিশ্বাস্য সফর
আশা ভোঁসলে কেবল একজন গায়িকা ছিলেন না, তিনি ছিলেন এক জীবন্ত ইতিহাস।
ভার্সাটাইল কুইন: যেখানে লতা মঙ্গেশকর ছিলেন মেলোডির সমার্থক, সেখানে আশা তাই নিজেকে ভেঙেছেন বারবার। ক্যাবারে থেকে শুরু করে উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত— তাঁর কণ্ঠের রেঞ্জ ছিল বিস্ময়কর।
৯০তম জন্মদিনে চমক: বয়সের ভার যাঁকে দমাতে পারেনি। জীবনের ৯০তম বসন্তেও দুবাইতে লাইভ কনসার্ট করে বিশ্বকে চমকে দিয়েছিলেন তিনি। কয়েক ঘণ্টা দাঁড়িয়ে গান গেয়ে প্রমাণ করেছিলেন, শিল্পীর কোনো অবসর হয় না।
লতাদিদির সঙ্গে ‘রেষারেষি’: মিথ না কি বাস্তব?
আশা ভোঁসলেকে নিয়ে সবথেকে বড় চর্চা ছিল তাঁর দিদি লতা মঙ্গেশকরের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে। এ নিয়ে সোহিনী চক্রবর্তীর প্রতিবেদনে কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরা হয়েছে:
ছায়ার লড়াই: কেরিয়ারের শুরুতে দিদির আকাশছোঁয়া সাফল্যের ছায়ায় ঢাকা পড়েছিলেন আশা। বহু সঙ্গীত পরিচালক লতার সঙ্গে মনোমালিন্যের পর আশাকে সুযোগ দিতেন। এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা কি তবে তিক্ত ছিল?
আশা তাই-এর বয়ান: আশাজি নিজেই এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, “আমরা বোন, আমাদের মধ্যে লড়াই ছিল না, ছিল রেষারেষি। কিন্তু সেটা ছিল শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই।”
বাস্তব চিত্র: ব্যক্তিজীবনে তাঁদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু বিপদে একে অপরের পাশে দাঁড়াতে কখনও কসুর করেননি দুই বোন। দিদির মৃত্যুর পর আশা হয়ে উঠেছিলেন মঙ্গেশকর পরিবারের প্রধান অভিভাবক।
মেলোডি কুইন বনাম পাওয়ার পারফর্মার
লতা মঙ্গেশকর যদি হোন ধ্রুপদী মাধুর্যের প্রতিমূর্তি, তবে আশা ছিলেন আধুনিক ভারতের কণ্ঠস্বর। আর ডি বর্মনের ছোঁয়ায় তিনি যে পপ ও জ্যাজ ঘরানার গানকে বলিউডে জনপ্রিয় করেছিলেন, তা আজও অতুলনীয়। ‘দম মারো দম’ থেকে ‘পিয়া তু আব তো আজা’— তাঁর কণ্ঠে প্রতিটি গান ছিল আগুনের মতো তেজস্বী।
আশা তাই-এর প্রয়াণে ভারতীয় সঙ্গীত জগতে যে শূন্যতা তৈরি হলো, তা পূরণ হওয়া অসম্ভব। তিনি রেখে গেলেন তাঁর অগণিত সৃষ্টি, যা আগামী ১০০ বছরও সঙ্গীতপ্রেমীদের মনে রসদ জোগাবে।





