মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে ইজরায়েল-লেবানন সংঘাতের আঁচ এবার সরাসরি আঘাত হানল আন্তর্জাতিক কূটনীতির অলিন্দে। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত আমেরিকা ও ইরানের মধ্যকার শান্তি প্রক্রিয়া এখন গভীর অনিশ্চয়তার মুখে। ‘দ্য জেরুসালেম পোস্ট’-এর চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে লেবাননের মাটিতে ইজরায়েলি বিমানহানা ও সামরিক আগ্রাসন যতদিন না থামছে, ততদিন তারা ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনও স্তরের আলোচনায় বসবে না। তেহরানের এই অনড় অবস্থান আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
এরই মধ্যে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে এই হাই-প্রোফাইল বৈঠক আয়োজনের খবর ঘিরে বিশ্বজুড়ে শোরগোল শুরু হয়েছিল। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’ দাবি করেছিল যে একটি ইরানি প্রতিনিধিদল ইতিপূর্বেই পাকিস্তানে পৌঁছে গিয়েছে। তবে ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যম ‘ফারস’ এবং ‘তাসনিম’ এই খবরকে ‘ভিত্তিহীন’ ও ‘ভুয়ো’ বলে কড়া ভাষায় উড়িয়ে দিয়েছে। তারা স্পষ্ট করেছে, লেবাননের সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ণ করে ইজরায়েলি তান্ডব চলতে থাকলে আমেরিকার সঙ্গে হাত মেলানোর কোনও প্রশ্নই ওঠে না।
অন্যদিকে, ওয়াশিংটনে আগামী সপ্তাহে ইজরায়েল ও লেবাননের মধ্যে একটি বৈঠকের আয়োজন করার চেষ্টায় রয়েছে মার্কিন প্রশাসন। ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু হেজবোল্লাকে নিরস্ত্রীকরণের শর্তে আলোচনার টেবিলে বসার ইঙ্গিত দিলেও, লেবানন সরকার পাল্টা জানিয়েছে যে আগে যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে হবে। এদিকে, পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রীর একটি বিতর্কিত সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টকে কেন্দ্র করে আমেরিকা ও ইজরায়েলি রাষ্ট্রদূতদের কড়া প্রতিক্রিয়া পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। সব মিলিয়ে, লেবাননের রক্তক্ষয়ী সংঘাত এখন আমেরিকা ও ইরানের মধ্যকার কূটনৈতিক সেতুবন্ধনকে ‘বিশ বাঁও জলে’ পাঠিয়ে দিয়েছে।





