ভোটের আবহে চরম আইনি বিপাকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কেন্দ্রীয় বাহিনী তথা সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স (CRPF)-কে নিয়ে তাঁর সাম্প্রতিক বিতর্কিত বক্তব্যের জেরে এফআইআর (FIR) দায়ের করলেন সুপ্রিম কোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী বিনীত জিন্দল। আইনজীবীর দাবি, মুখ্যমন্ত্রীর এই ধরনের মন্তব্য কেবল উস্কানিমূলক নয়, বরং তা সরাসরি দেশের সুরক্ষা বাহিনীর জওয়ানদের প্রতি চরম অবমাননাকর।
অভিযোগের মূল কারণ কী?
নির্বাচনী জনসভা থেকে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর করা কিছু মন্তব্যকে কেন্দ্র করে এই আইনি লড়াইয়ের সূত্রপাত। এফআইআর-এ আইনজীবী বিনীত জিন্দল অভিযোগ করেছেন:
সেনাবাহিনীকে অপমান: জওয়ানদের নিয়ে এমন শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে যা তাঁদের মনোবল ভেঙে দেয়।
হিংসায় উস্কানি: মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য সাধারণ মানুষকে কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে আইন হাতে তুলে নিতে প্ররোচিত করতে পারে, যার ফলে বড়সড় অশান্তির আশঙ্কা রয়েছে।
অবাধ ভোটে বাধা: এই ধরনের মন্তব্য সুষ্ঠু নির্বাচন প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটানোর একটি সুপরিকল্পিত ছক।
কোন কোন ধারায় মামলা?
সূত্রের খবর, বিনীত জিন্দল দিল্লির একটি থানায় দায়ের করা অভিযোগে ভারতীয় দণ্ডবিধির একাধিক কঠোর ধারা যুক্ত করার আর্জি জানিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে জনসমক্ষে উস্কানি দেওয়া, শান্তি বিঘ্নিত করার চেষ্টা এবং জাতীয় নিরাপত্তার পরিপন্থী কাজ করার মতো অভিযোগ। বিনীত জিন্দলের কথায়,
“সাংবিধানিক পদে বসে দেশের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ানো বরদাস্ত করা যায় না। আইনের চোখে সবাই সমান, তাই ওঁর বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ প্রয়োজন।”
চাপে তৃণমূল শিবির
ভোটের মুখে যখন বিজেপি এবং অন্যান্য বিরোধী দলগুলো কেন্দ্রীয় বাহিনীকে নিয়ে তৃণমূলের মনোভারকে ইস্যু করছে, ঠিক সেই সময় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীর এই পদক্ষেপ মমতার প্রচারের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করল। তৃণমূল নেতৃত্ব অবশ্য এই মামলাকে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। তাঁদের দাবি, কেন্দ্র ও বিজেপি এজেন্সির পাশাপাশি এখন আইনি অস্ত্রকেও ব্যবহার করছে।
কমিশন কি এই এফআইআর-এর ভিত্তিতে মমতার প্রচারে কোনও সেন্সরশিপ আনবে? না কি আইনি লড়াইয়ের মাঝেই চলবে দিদির হাই-ভোল্টেজ প্রচার? নজর থাকবে ডেইলিয়ান্ট-এর পাতায়।





