ক্রিকেট ইতিহাসে ব্যক্তিগত শোক ভুলে মাঠে নেমে দেশ তথা দলের হয়ে লড়াই করার ঘটনা বিরল নয়। ১৯৯৯ বিশ্বকাপে বাবার মৃত্যুর খবর পেয়ে দেশে ফিরেছিলেন শচীন তেন্ডুলকর। কিন্তু শেষকৃত্য সেরেই কেনিয়ার বিরুদ্ধে সেঞ্চুরি করে ফিরে এসেছিলেন ব্যাট হাতে। আজ কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে কি তেমনই কোনো রূপকথার পুনরাবৃত্তি ঘটবে? রিঙ্কু সিং-এর দিকে আজ তাকিয়ে রয়েছে গোটা দেশ। গত শুক্রবার লড়াকু রিঙ্কুর জীবনের সবচেয়ে বড় স্তম্ভ, তাঁর বাবা খাঁচান্দ সিং লিভার ক্যান্সারের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। আলিগড়ে বাবার শেষকৃত্য সম্পন্ন করেই শনিবার গভীর রাতে দলের সঙ্গে কলকাতায় যোগ দিয়েছেন রিঙ্কু।
বাবার মৃত্যুতে রিঙ্কু কতটা ভেঙে পড়েছিলেন, তা সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ভিডিও দেখলেই বোঝা যায়। কাঁধে করে বাবার নশ্বর দেহ বয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় অঝোরে কাঁদছিলেন ভারতীয় দলের এই নির্ভরযোগ্য ব্যাটার। কিন্তু শোকের সাগরে ডুবে থাকলেও রিঙ্কু জানেন, আজ ভারতের কাছে ম্যাচটি ‘ডু অর ডাই’। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে জিতলে তবেই সেমিফাইনালের পথ প্রশস্ত হবে। আর এই মরণ-বাঁচন লড়াইতে দলে একজন ফিনিশারের গুরুত্ব অপরিসীম। অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব এবং কোচ গৌতম গম্ভীরও রিঙ্কুকে মানসিক সমর্থন দিতে কসুর করছেন না। ইডেন রিঙ্কুর আইপিএল ঘরের মাঠ (KKR), তাই এখানকার প্রতি ইঞ্চি ঘাস তাঁর চেনা।
আজকের ম্যাচে রিঙ্কুর প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা প্রবল। তিলক বর্মা বা অন্য কোনো ব্যাটারের পরিবর্তে রিঙ্কুকে আজ ‘প্লেয়িং ইলেভেন’-এ দেখা যেতে পারে। ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শচীনের মতোই রিঙ্কুর লড়াকু মানসিকতা তাঁকে আজ মাঠে বাড়তি অনুপ্রেরণা দেবে। এককালে যে বাবা ক্রিকেট খেলার জন্য মারধর করতেন, সেই বাবার অনুপ্রেরণাতেই আজ রিঙ্কু বিশ্বখ্যাত। আজ যখন তিনি ইডেনের গ্যালারি থেকে ‘রিঙ্কু-রিঙ্কু’ চিৎকার শুনবেন, তখন সেই শব্দের মাঝে হয়তো বাবার আশীর্বাদই খুঁজে নেবেন তিনি। ভারতের ১৬০ কোটি মানুষের প্রার্থনা, আজ যেন রিঙ্কুর ব্যাটে কান্নার বদলে জয়ের হাসি ফোটে।