লোকসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোট গ্রহণের আগে রাজ্যে নিরাপত্তার চাদর আরও মজবুত করতে নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিল পুলিশ ও প্রশাসন। গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যজুড়ে চালানো বিশেষ অভিযানে ১,০৯৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই গ্রেফতারির তালিকায় শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের এক কাউন্সিলরও রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
কেন এই গণ-গ্রেফতারি?
লালবাজার এবং নবান্ন সূত্রে খবর, নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য হলো একটি অবাধ ও ভয়মুক্ত ভোট নিশ্চিত করা। মূলত নিচের কারণগুলোতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে:
বকেয়া ওয়ারেন্ট: যাঁদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের বকেয়া গ্রেফতারি পরোয়ানা (Warrant) ছিল, তাঁদের খুঁজে বের করে গ্রেফতার করা হচ্ছে।
অশান্তি পাকানোর আশঙ্কা: নির্বাচনের আগে এলাকায় অশান্তি ছড়াতে পারে এমন ‘সন্দেহভাজন’ ব্যক্তিদের তালিকায় থাকা নামগুলো ধরে ধরপাকড় চলছে।
অবৈধ অস্ত্র ও মদ: বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালিয়ে অবৈধ অস্ত্র এবং প্রচুর পরিমাণে বেআইনি মদ উদ্ধার করা হয়েছে।
তৃণমূল কাউন্সিলরের গ্রেফতারি ঘিরে বিতর্ক
সবচেয়ে বেশি চর্চা হচ্ছে তৃণমূল কাউন্সিলরের গ্রেফতারি নিয়ে। বিরোধীদের অভিযোগ, নির্বাচনের আগে ভোটারদের ভয় দেখাতে এবং এলাকায় প্রভাব খাটাতে সক্রিয় ছিলেন এই নেতা। তবে শাসকদলের পক্ষ থেকে পাল্টা দাবি করা হয়েছে যে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হেনস্থা করা হচ্ছে। পুলিশ অবশ্য জানিয়েছে, নির্দিষ্ট অভিযোগ এবং প্রমাণের ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এক নজরে পুলিশের অ্যাকশন:
মোট গ্রেফতার: ১০৯৫ জন।
বড় নাম: শাসকদলের প্রভাবশালী কাউন্সিলর।
এলাকা: কলকাতা ও শহরতলি সহ রাজ্যের বিভিন্ন স্পর্শকাতর জোন।
নিরাপত্তায় কড়াকড়ি
দ্বিতীয় দফার ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকেই নাকা চেকিং এবং রুট মার্চ বাড়িয়ে দিয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও রাজ্য পুলিশ। প্রতিটি গাড়ি তল্লাশি করা হচ্ছে এবং বহিরাগতদের গতিবিধির ওপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে। পুলিশের এই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি সাধারণ ভোটারদের মনে কতটা সাহস জোগায়, সেটাই এখন দেখার।





