প্রথম দফার ভোটের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে দ্বিতীয় দফার লড়াইয়ে নিরাপত্তায় বিন্দুমাত্র ফাঁক রাখতে চাইছে না নির্বাচন কমিশন। আগামী ভোটগ্রহণের দিন রাজ্যের শিল্পাঞ্চল থেকে শুরু করে সুন্দরবনের দুর্গম এলাকা— সর্বত্রই কড়া প্রহরার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কমিশন সূত্রে খবর, দ্বিতীয় দফায় অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে রেকর্ড সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে।
বাহিনীর খতিয়ান: কত জওয়ান নামছে ময়দানে?
সূত্রের খবর অনুযায়ী, দ্বিতীয় দফার ভোটের জন্য নির্বাচন কমিশন রাজ্যে মোট ২৭২ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর সাথে থাকছে কয়েক হাজার রাজ্য পুলিশ কর্মীও। বাহিনীর বিন্যাস হবে নিম্নরূপ:
ব্যারাকপুর ও শিল্পাঞ্চল: সংবেদনশীল এলাকা হিসেবে চিহ্নিত শিল্পাঞ্চলের প্রতিটি বুথে গড়ে ৪ থেকে ৮ জন জওয়ান মোতায়েন থাকবে।
সুন্দরবন এলাকা: সুন্দরবনের নদীপথ এবং দুর্গম দ্বীপগুলোর নিরাপত্তায় মোতায়েন থাকবে বিশেষ টহলদারি দল। এমনকি জলপথে নজরদারির জন্য স্পিডবোট ব্যবহারের পরিকল্পনাও রয়েছে।
নিরাপত্তার জাল: কিউআরটি (Quick Response Team) এবং সেক্টর অফিসের জন্য আলাদাভাবে রিজার্ভ ফোর্স রাখা হচ্ছে।
বুথের নিরাপত্তা ও নজরদারি
কমিশন জানিয়েছে, প্রতিটি বুথের ১০০ মিটারের মধ্যে শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় বাহিনীই শান্তি-শৃঙ্খলার দায়িত্বে থাকবে। রাজ্য পুলিশকে মূলত বুথের বাইরে ভিড় সামলানোর কাজে ব্যবহার করা হবে। এছাড়া:
১. ১০০% ওয়েবকাস্টিং: প্রতিটি বুথের ভেতরের পরিস্থিতি সরাসরি দিল্লিতে লাইভ দেখার ব্যবস্থা থাকছে।
২. ড্রোনের ব্যবহার: শিল্পাঞ্চলের ঘিঞ্জি গলি বা সুন্দরবনের খাঁড়িতে নজরদারির জন্য ড্রোনের সাহায্য নেওয়া হতে পারে।
৩. মাইক্রো অবজারভার: বুথের ভেতর কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটছে কি না, তা দেখার জন্য থাকছেন বিশেষ পর্যবেক্ষক।
কেন এই বাড়তি সতর্কতা?
প্রথম দফায় বিক্ষিপ্ত অশান্তির অভিযোগ ওঠায় দ্বিতীয় দফায় বিশেষ করে উত্তর ২৪ পরগনা ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার স্পর্শকাতর বুথগুলোতে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিরোধীদের দাবি ছিল, শুধুমাত্র বুথে বাহিনী দিলেই হবে না, ভোটারদের বাড়ি থেকে বুথ পর্যন্ত আসার রাস্তা নিরাপদ করতে হবে। সেই দাবি মেনেই এবার গ্রামে গ্রামে এবং অলিগলিতে রুট মার্চ বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।
নির্বাচন কমিশনের এই ‘মাস্টার প্ল্যান’ কি পারবে এবারের ভোটকে সম্পূর্ণ হিংসামুক্ত করতে? উত্তর মিলবে ভোটগ্রহণের দিনেই।





