পশ্চিমবঙ্গে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকার ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধন’ বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে এবার সরাসরি প্রশ্ন তুললেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন। তাঁর মতে, অত্যন্ত তাড়াহুড়ো করে এই কাজ করা হচ্ছে, যার ফলে অনেক বৈধ ভারতীয় নাগরিকের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, পর্যাপ্ত সময় না দিয়ে এই প্রক্রিয়া চালানো ভারতীয় গণতন্ত্রের জন্য ‘অন্যায্য’।
নিজের অভিজ্ঞতায় কমিশনের ভুল ধরিয়ে দিলেন সেন
সম্প্রতি অমর্ত্য সেনকেও এসআইআর শুনানির জন্য নোটিশ পাঠিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। তাঁর ফরমে মৃত মায়ের বয়সের সঙ্গে তাঁর বয়সের পার্থক্য ১৫ বছরের কম হওয়ায় সেটিকে ‘যৌক্তিক অসামঞ্জস্য’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। বোস্টন থেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই অভিজ্ঞতা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি বলেন:
“যেখানে আমি আগে ভোট দিয়েছি, আমার সব রেকর্ড আছে— সেখানেও আমার মৃত মায়ের বয়স নিয়ে আমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।”
তিনি আরও জানান যে, তাঁর মতো শান্তিনিকেতন গ্রামে জন্মানো অনেকেরই বার্থ সার্টিফিকেট নেই। তাঁর পাশে বন্ধুরা থাকলেও, গ্রামের সাধারণ মানুষ যাঁদের কোনো সাহায্য নেই, তাঁরা কীভাবে এই জটিল নথি পেশ করবেন, তা নিয়ে তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
বিজেপি কি সুবিধা পাচ্ছে?
নির্বাচন কমিশনের এই প্রক্রিয়ায় কোনো বিশেষ রাজনৈতিক দল সুবিধা পাচ্ছে কি না, এই প্রশ্নের জবাবে অমর্ত্য সেন বলেন, “আমি নির্বাচন বিশেষজ্ঞ নই, তবে অনেকেই বলছেন এই ব্যবস্থার ত্রুটির ফলে বিজেপি লাভবান হতে পারে। তবে যেই লাভবান হোক না কেন, নির্বাচন কমিশনের কাজ হওয়া উচিত একটি ত্রুটিমুক্ত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা বজায় রাখা।”
সুপ্রিম কোর্ট ও কমিশনের প্রতি আহ্বান
অমর্ত্য সেনের হুঁশিয়ারি, তাড়াহুড়ো করে ভোটার তালিকা সংশোধন করতে গিয়ে যেন কোনো প্রকৃত ভারতীয় নাগরিক বঞ্চিত না হন। তিনি সাফ বলেন, “পর্যাপ্ত সময় নিয়ে সাবধানতার সঙ্গে পর্যালোচনা করা একটি ভালো গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া হতে পারে, তবে এই মুহূর্তে পশ্চিমবঙ্গে তা ঘটছে না।” তিনি এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশন ও সুপ্রিম কোর্টকে বিশেষ নজর দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, অমর্ত্য সেনকে পাঠানো এই নোটিশ নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। বিজেপির সুকান্ত মজুমদার জানিয়েছেন, আইন সবার জন্য সমান হওয়া উচিত। যদিও বিরোধী শিবির একে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ হিসেবেই দেখছে।





