সকালে নাস্তা করেন তো? ভুল করেও এটি বাদ দেবেন না, ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি বাড়বে চারগুণ!

‘ভুলে যাওয়ার রোগ’ বা ডিমেনশিয়া (Dementia) বর্তমানে বিশ্বব্যাপী একটি উদ্বেগজনক স্বাস্থ্য সমস্যা। যদিও এর লক্ষণগুলো সাধারণত ৬০ বছরের পরে দেখা দেয়, কিন্তু বর্তমানে অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাত্রা এবং স্বাস্থ্য নিয়ে উদাসীন থাকার কারণে বহু মানুষের মধ্যে ৩০-৪০ বছর বয়সেই এর মারাত্মক প্রভাব দেখা দিচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দরিদ্র জীবনযাপন, অনিয়মিত খাওয়ার ধরন এবং শারীরিক কার্যকলাপের অভাব মস্তিষ্কের কার্যকারিতাকে প্রভাবিত করে। ডিমেনশিয়া প্রাথমিক অবস্থায় টের পাওয়া যায় না, কিন্তু বয়স বাড়লে তা মারাত্মক আকার ধারণ করে।

সকালের নাস্তা বাদ দিলেই বিপদ চারগুণ
নতুন একটি গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, দিনের প্রথম খাবার, অর্থাৎ সকালের নাস্তা (Breakfast) বাদ দিলে পরবর্তী জীবনে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি প্রায় চারগুণ বেড়ে যায়!

জাপানিজ জার্নাল অব হিউম্যান সায়েন্সেস অব হেলথ-সোশ্যাল সার্ভিসেস-এ প্রকাশিত এক গবেষণা ফলাফলে এই তথ্য জানা গেছে। জাপানের একটি গ্রামের কৃষক সম্প্রদায়ে ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রায় ৫২৫ জন বয়স্ক ব্যক্তির উপর ৬ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই গবেষণাটি চালানো হয়েছিল।

গবেষণার শেষে দেখা যায়, লিঙ্গ ও বয়স নির্বিশেষে, যারা নিয়মিত প্রাতঃরাশ (Breakfast) করেননি, তাদের ডিমেনশিয়া হওয়ার ঝুঁকি অন্যদের তুলনায় চারগুণ বেশি ছিল।

আরও যেসব খাদ্যাভ্যাস বাড়ায় ঝুঁকি
গবেষণায় আরও প্রকাশ করা হয়েছে যে, কেবল সকালের নাস্তা বাদ দেওয়াই নয়, অন্যান্য অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাসও ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি বাড়াতে পারে:

স্ন্যাকিং বা অনিয়মিত আহার: দুপুরের আগে কিংবা বিকেলে খাবার (স্ন্যাকিং) না করা ব্যক্তিদের ঝুঁকি ২.৭ গুণ বেশি।

অতিরিক্ত লবণ: যাঁরা লবণ বেশি খেয়েছেন, তাঁদের ঝুঁকি ২.৫ গুণ বেশি।

অসুষম খাদ্য: যাঁরা সুষম খাদ্যের প্রতি যত্নশীল নন, তাঁদের পরবর্তী জীবনে ডিমেনশিয়া ধরা পড়ার ঝুঁকি ২.৭ গুণ বেশি।

ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি কমাতে কী খাবেন?
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিমেনশিয়াসহ বিভিন্ন দীর্ঘস্থায়ী রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করতে খাদ্যতালিকায় অবশ্যই স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিকর খাবার অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। ভিটামিন ও খনিজ সমৃদ্ধ একটি সুষম খাদ্য মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য ভালো রাখে।

শিকাগোর রাশ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের পরামর্শ অনুযায়ী, মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে আপনার খাদ্যতালিকায় এই খাবারগুলো থাকা জরুরি:

আস্ত শস্য (Whole Grains): যেমন ওটস, ব্রাউন রাইস ইত্যাদি।

বাদাম ও বীজ (Nuts and Seeds): যেমন আখরোট, কাঠবাদাম ইত্যাদি।

স্বাস্থ্যকর চর্বি (Healthy Fats): যেমন অলিভ অয়েল বা মাছের তেল।

শাক সবজি ও ফল (Vegetables and Fruits): বিশেষত সবুজ শাকসবজি।

সকালের নাস্তাকে দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাবার মনে করে পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্যকর খাবার খেলে আপনি কেবল মনোযোগ সহকারে সক্রিয়ভাবে দিন কাটাতে পারবেন না, বরং মস্তিষ্কের দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যও সুরক্ষিত থাকবে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy