নয়ডার রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ড (Noida murder) চমকে দিয়েছিল গোটা দেশকে। গত ৬ সেপ্টেম্বরের সকালে নয়ডার সেক্টর-৩৯ থানা এলাকার একটি ড্রেন থেকে উদ্ধার হয়েছিল এক মহিলার মুণ্ডহীন দেহ। অবশেষে সেই ঘটনার জট খুলল। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে গ্রেফতার করা হলো অভিযুক্ত বাসচালক মনু সিং ওরফে মনু সোলাঙ্কিকে (৩৪)।
পুলিশের দাবি, বিবাহিত মনু সিংয়ের সঙ্গে নিহত প্রীতি যাদবের অবৈধ সম্পর্ক ছিল। খুন করার পর সে প্রীতির দেহ খণ্ড খণ্ড করে নয়ডা ও গাজিয়াবাদের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে দেয়। অভিযুক্ত মনু সিং এবং নিহত প্রীতি যাদব দু’জনেই নয়ডার বারোলা এলাকায় পরিবার-সহ থাকতেন।
কেন এই নৃশংস খুন?
যমুনা প্রসাদ, ডেপুটি কমিশনার অফ পুলিশ (ডিসিপি), জানিয়েছেন যে জিজ্ঞাসাবাদে মনু দাবি করেছে যে প্রীতি তাঁর কাছ থেকে জোর করে টাকা আদায় করতেন। শুধু তাই নয়, প্রীতি প্রায়ই হুমকি দিতেন যে তিনি মনুর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করবেন, এমনকী তাঁর দুই মেয়েকেও জড়িয়ে দিতে পারেন। এই কারণে, প্রীতিকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় মনু।
কীভাবে খুন এবং দেহ লোপাট?
পুলিশ সূত্রে খবর, গত ৫ নভেম্বর রাতে ঘটনার সূত্রপাত।
-
মনু প্রীতিকে তাঁর বাসে নিয়ে আসে। সে আগে থেকেই প্রীতির বাড়ি থেকে একটি ধারালো অস্ত্র সংগ্রহ করে এনেছিল।
-
খাবার খাওয়ার পর দু’জনের মধ্যে তীব্র তর্কাতর্কি শুরু হয়। মনুর দাবি, সেই সময়ই সে প্রেমিকাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে।
-
শনাক্তকরণ এড়াতে মনু ধড় থেকে মাথা আলাদা করে দেয় এবং হাত দু’টিও কেটে নেয়।
-
এরপর দেহের ধড়টি নয়ডার একটি নর্দমায় ফেলে দেয়। মাথা, হাত এবং খুনে ব্যবহৃত অস্ত্রটি গাজিয়াবাদের সিদ্ধার্থ বিহারের কাছে একটি শুকনো নর্দমায় নিয়ে গিয়ে ফেলে দেয়।
পুলিশ জানিয়েছে, বাস থেকে উদ্ধার করা সামগ্রী ও বাসের ভেতরের ফরেন্সিক পরীক্ষায় রক্তের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
তদন্তে কীভাবে ধরা পড়ল অভিযুক্ত?
৬ নভেম্বর নয়ডার ড্রেন থেকে দেহের ধড় উদ্ধার হওয়ার পর পরিচয় জানার একমাত্র সূত্র ছিল তাঁর পায়ের আংটি (toe rings)। এরপরই পুলিশ মোট ৯টি দল গঠন করে বিশাল তদন্ত শুরু করে।
ডিসিপি প্রসাদ জানান, তদন্তে ৫,০০০-এরও বেশি সিসিটিভি ক্যামেরা স্ক্যান করা হয় এবং ১,১০০ গাড়ি খতিয়ে দেখা হয়। ৪৪টি সন্দেহভাজন গাড়িকে চিহ্নিত করে মালিক ও চালকদের জেরা করা হয়। তদন্ত চলাকালীন একটি সাদা-নীল বাস নজরে আসে, যেটি হেডলাইট নিভিয়ে ৫ নভেম্বর রাতেই অপরাধস্থলের কাছে ঘোরাঘুরি করছিল। ওই বাসের হদিস ধরেই পুলিশ অবশেষে মনু সিংয়ের কাছে পৌঁছয়। মনুর বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির নানা ধারায় মামলা রুজু হয়েছে।