গড়িয়ায় কি এবার বুলডোজার রাজ? শুভেন্দুর নির্দেশে গুঁড়িয়ে যাচ্ছে বিখ্যাত ক্লক টাওয়ার!

পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার পালাবদলের পর থেকেই শুরু হয়েছে এক নতুন অধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার কার্যভার গ্রহণ করার প্রথম দিন থেকেই স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, রাজ্যে এবার থেকে কেবল নিয়মের শাসন চলবে। এই বার্তার প্রথম প্রতিফলন দেখা গেল দক্ষিণ কলকাতার গড়িয়ায়। দীর্ঘদিনের বিতর্কিত ও অবৈধ বলে চিহ্নিত গড়িয়ার বিখ্যাত ‘ক্লক টাওয়ার’ ভাঙার কাজ শুরু করল প্রশাসন। একসময় যা ছিল এলাকার ল্যান্ডমার্ক, আজ তা বুলডোজারের সামনে দাঁড়িয়ে।

গড়িয়ার মিতালি সংঘ ক্লাবের খেলার মাঠের ওপর নির্মিত এই ৫৬ ফুট উঁচু ক্লক টাওয়ারটি নিয়ে আইনি লড়াই চলছিল দীর্ঘকাল। অভিযোগ ছিল, ক্লাবের প্রায় ৮৪ শতক জমি দখল করে কোনো অনুমোদিত প্ল্যান ছাড়াই এই বিশাল কাঠামোটি গড়ে তোলা হয়েছিল। গত বছর কলকাতা হাইকোর্ট সাফ জানিয়ে দেয়, এই নির্মাণ সম্পূর্ণ অবৈধ। আদালত স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিল যে, দুই মাসের মধ্যে এই টাওয়ার ভেঙে ফেলে মাঠটিকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দিতে হবে। কিন্তু পূর্ববর্তী প্রশাসনের আমলে সেই নির্দেশ কার্যকর করার ক্ষেত্রে ঢিলেমি দেখা গিয়েছিল বলে অভিযোগ।

তবে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরেই ছবিটা বদলে গেছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সরাসরি হস্তক্ষেপে ‘অ্যাকশন মোডে’ নেমেছে প্রশাসন। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন যে রাজ্যের কোথাও কোনো অবৈধ নির্মাণ বা সরকারি জমি দখল বরদাস্ত করা হবে না। গড়িয়ার এই অভিযান সেই বড় প্রকল্পেরই একটি অংশ। বৃহস্পতিবার সকালে যখন এলাকায় বুলডোজার পৌঁছায়, তখন স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি বড় অংশ, যারা দীর্ঘদিন ধরে খেলার মাঠ ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন, তারা এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, সৌন্দর্যায়নের নামে সাধারণ মানুষের খেলার জায়গা কেড়ে নেওয়া হয়েছিল।

অন্যদিকে, এই টাওয়ারটিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরজাও তুঙ্গে। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এই অভিযানকে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। তাদের দাবি, জনকল্যাণমূলক এবং সৌন্দর্যায়নের কাজগুলোকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করছে নতুন সরকার। পালটা জবাবে বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, এটি কোনো প্রতিহিংসা নয়, বরং আদালতের নির্দেশ পালন এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই প্রসঙ্গে বলেন, “আইন ভাঙলে কাউকে রেহাই দেওয়া হবে না। আমরা কোনো নির্দিষ্ট মডেল অনুকরণ করছি না, বরং বাংলার মাটিতে দাঁড়িয়ে নিয়মের শাসন প্রতিষ্ঠা করছি। সাধারণ মানুষের জমি বা খেলার মাঠ দখল করে কোনো বেআইনি কাজ চলতে দেওয়া হবে না।” গড়িয়ার ক্লক টাওয়ার ভাঙার এই ঘটনা বুঝিয়ে দিচ্ছে যে, আগামী দিনে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা অবৈধ দোকানপাট, ফ্যাক্টরি এবং বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে আরও বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে বর্তমান সরকার।