OMG! মানুষ উড়ে গেল কয়েকশো ফুট দূরে! দেখুন উত্তরপ্রদেশে প্রকৃতির তাণ্ডবের ভিডিও

প্রকৃতির এক ভয়ংকর তাণ্ডবের সাক্ষী থাকল উত্তরপ্রদেশ। প্রবল ধুলোর ঝড়, মুহুর্মুহু বজ্রপাত এবং ভারী বৃষ্টির সাঁড়াশি আক্রমণে তছনছ হয়ে গিয়েছে রাজ্যের একাধিক জেলা। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে মৃত্যুমিছিল পৌঁছেছে ৮৯-এ। ঝড়ের দাপট এতটাই বেশি ছিল যে, বহু ঘরবাড়ি ধূলিসাৎ হয়ে গিয়েছে এবং শয়ে শয়ে গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে স্বাভাবিক জনজীবন সম্পূর্ণ স্তব্ধ।

মানুষ উড়ে যাওয়ার শিউরে ওঠা দৃশ্য

সমাজমাধ্যমে এই ঝড়ের একটি ভিডিও (সত্যতা যাচাই করেনি ডেইলিয়ান্ট) ছড়িয়ে পড়েছে, যা দেখে শিউরে উঠছেন নেটিজেনরা। ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, হাওয়ার গতিবেগ এতটাই তীব্র ছিল যে, এক ব্যক্তি খড়কুটোর মতো উড়ে গিয়ে কয়েকশো ফুট দূরে আছড়ে পড়ছেন। প্রয়াগরাজ থেকে প্রতাপগড়— সর্বত্রই ধ্বংসলীলার একই ছবি।

জেলায় জেলায় মৃত্যুমিছিল

উত্তরপ্রদেশ ত্রাণ কমিশনারের দফতরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে নিম্নলিখিত জেলাগুলোতে:

  • প্রয়াগরাজ: সর্বোচ্চ ২১ জনের মৃত্যু। হান্ডিয়া, ফুলপুর ও সোরাওঁ এলাকায় সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি।

  • ভাদোহি: ঝড়ের কবলে পড়ে মৃত্যু হয়েছে ১৬ জনের।

  • ফতেহপুর ও মির্জাপুর: যথাক্রমে ১১ ও ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

  • প্রতাপগড়: দেওয়াল ধসে ও বজ্রপাতে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

ধ্বংসের খতিয়ান: ঘরবাড়ি ও গবাদি পশু

ত্রাণ কমিশনারের রিপোর্ট বলছে, বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত ৫৩ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। ঝড়ের কবলে পড়ে ১১৪টি গবাদি পশুর মৃত্যু হয়েছে এবং প্রায় ৮৭টি বাড়ি সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ধ্বংস হয়েছে। বিঘার পর বিঘা গম ও সবজি চাষ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় মাথায় হাত কৃষকদের।

যোগী আদিত্যনাথের কড়া নির্দেশ ও ক্ষতিপূরণ

বিপর্যয়ের খবর পাওয়া মাত্রই ময়দানে নেমেছেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। তিনি সমস্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও কমিশনারদের নির্দেশ দিয়েছেন যাতে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর কাছে সরকারি ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া হয়।

  • ক্ষতিপূরণ: মৃতদের পরিবারকে ৪ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

  • উদ্ধারকাজ: রাস্তা থেকে উপড়ে পড়া গাছ সরানো এবং দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ ফেরানোর বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে বলা হয়েছে।

লণ্ডভণ্ড প্রয়াগরাজ: উপড়ে পড়েছে শতাব্দীপ্রাচীন গাছ

প্রয়াগরাজের মহাত্মা গান্ধী মার্গ, অশোক নগর এবং কাছারি রোডের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় গাছ পড়ে রাস্তা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। পুরসভার কর্মীরা যুদ্ধকালীন তৎপরতায় গাছ সরানোর কাজ করছেন। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জানিয়েছেন, মোবাইল নেটওয়ার্ক ও বিদ্যুৎ পরিষেবা বিচ্ছিন্ন থাকায় উদ্ধারকাজে কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে।

প্রকৃতির এই রুদ্ররূপ উত্তরপ্রদেশকে যে দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতির মুখে ঠেলে দিল, তা বলাই বাহুল্য। উদ্ধারকাজ শেষ হলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

tips24desk
  • tips24desk