এক ক্লিকেই উধাও ৫ কোটির বেশি নাম! আপনার ভোটার কার্ড কি এখনও বৈধ? কমিশন দিল বড় আপডেট

দেশের গণতন্ত্রের মূল স্তম্ভ ভোটার তালিকা নিয়ে এক অভাবনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। দীর্ঘ আড়াই দশক পর দেশে আবারও শুরু হচ্ছে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (Special Intensive Revision বা SIR)। বৃহস্পতিবার একটি উচ্চপর্যায়ের বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে কমিশন জানিয়েছে, তৃতীয় পর্যায়ে দেশের ১৬টি রাজ্য এবং ৩টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এই প্রক্রিয়া পরিচালিত হবে।

কমিশনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়ায় ৩.৯৪ লক্ষেরও বেশি বুথ লেভেল অফিসার (BLO) সরাসরি ৩৬.৭৩ কোটি ভোটারের বাড়িতে গিয়ে তথ্য যাচাই করবেন। সরকারি এই কর্মীদের কাজে সহায়তা করবেন রাজনৈতিক দলগুলির নিযুক্ত ৩.৪২ লক্ষ বুথ লেভেল এজেন্ট (BLA)। তবে হিমাচল প্রদেশ, জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখকে এই দফার আওতার বাইরে রাখা হয়েছে।

এই প্রসঙ্গে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার দেশবাসীর উদ্দেশে বিশেষ বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমি সমস্ত ভোটারদের কাছে আবেদন জানাচ্ছি, আপনারা এই বিশেষ নিবিড় সংশোধনে উৎসাহের সাথে অংশগ্রহণ করুন এবং যথাযথ ফর্ম পূরণ করুন। আমাদের মূল লক্ষ্য হল একটি স্বচ্ছ ভোটার তালিকা তৈরি করা, যেখানে কেবল যোগ্য ভোটারদেরই নাম থাকবে এবং কোনোভাবেই কোনো অযোগ্য নাম সেখানে জায়গা পাবে না।”

উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশন শেষবার ২০০০ সালে দেশজুড়ে এই ‘ইনটেনসিভ রিভিশন’ বা নিবিড় সংশোধন করেছিল। গত কয়েক বছর ধরে ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় সংক্ষিপ্ত সংশোধন (Summary Revision) করা হলেও, ২০২৫ সালের ২৪ জুন কমিশন বিশেষ নিবিড় সংশোধনের নির্দেশ দেয়। ১৯৬০ সালের ভোটার নিবন্ধন নীতি অনুযায়ী, কমিশন চাইলে আংশিক বা পূর্ণ নিবিড় সংশোধন করার ক্ষমতা রাখে।

নিবিড় সংশোধনের পদ্ধতিটি সাধারণ সংশোধনের চেয়ে অনেকটাই আলাদা। এখানে নতুন করে ভোটার তালিকা প্রস্তুত করা হয়। অন্যদিকে, সংক্ষিপ্ত সংশোধনে কেবল মৃত বা স্থানান্তরিত ব্যক্তিদের নাম বাদ দেওয়া এবং নতুনদের নাম তোলা হয়। বর্তমান SIR প্রক্রিয়ার প্রভাব ইতিমধ্যে স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। পরিসংখ্যান বলছে, এখনও পর্যন্ত বিহার, রাজস্থান, পশ্চিমবঙ্গ এবং উত্তরপ্রদেশসহ বেশ কিছু রাজ্যে ৫.৫৮ কোটি ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, যা মোট ভোটার তালিকার প্রায় ৯.৫৫ শতাংশ। তাই নিজের নাগরিকত্বের প্রমাণ ও ভোটাধিকার সুরক্ষিত রাখতে বিএলও-দের সহযোগিতা করা এবং সঠিক তথ্য প্রদান করা প্রতিটি ভোটারের জন্য এখন বাধ্যতামূলক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy