প্রতিদিন ৮ ঘণ্টার কম ঘুমালে কী হয়? বিষণ্নতা থেকে হৃদরোগ, ৭টি মারাত্মক বিপদ ডেকে আনছেন নিজের অজান্তেই!

প্রতিদিন অন্তত ৮ ঘণ্টা ঘুমানো জরুরি। এর চেয়ে কম ঘুম হলে শারীরবৃত্তীয় ও মানসিক উভয় ধরনের গুরুতর সমস্যা হতে পারে। আসুন, দেখে নিই, কম ঘুমের কারণে কী ধরনের জটিল সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে:
১। বিষণ্নতা (Depression): অনেকেই মনে করেন, শরীর তো সুস্থই আছে। কিন্তু কাজে মন বসছে না, হাজারো আবোলতাবোল কথা মাথার মধ্যে পাক খাচ্ছে, কোনো কিছুর প্রতি ইচ্ছাশক্তি কমে যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কম ঘুম সবচেয়ে আগে মনকে প্রভাবিত করে। এমনকি দীর্ঘদিন ধরে কম ঘুমের ফলে আপনি গভীর ডিপ্রেশন বা বিষণ্নতায় ডুবে যেতে পারেন।
২। ত্বকের বয়স বৃদ্ধি: পর্যাপ্ত ঘুম না হলে ত্বকের বয়স দ্রুত বেড়ে যায়। ঘুম ঠিকমতো না হলে কর্টিসল (Cortisol) নামের হরমোনের ক্ষরণ বেড়ে যায়। এটি ত্বকের কোলাজেনকে (Collagen) নষ্ট করে দেয়। কোলাজেনের কাজ হল ত্বকের টানটান বাঁধন ধরে রাখা। কোলাজেন নষ্ট হয়ে গেলে ত্বকের যৌবনও দ্রুত কমে যায়। শুধু তাই নয়, চোখের নীচে কালি পড়ার সঙ্গে সঙ্গে ‘ডার্ক সার্কেল’-এর সংখ্যাও বেড়ে যায়।
৩। সেক্সের ইচ্ছা হ্রাস: বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কম ঘুমের ফলে শরীরে সেক্স হরমোনের ক্ষরণ কমতে থাকে। শুধু তাই নয়, কমে যায় উত্তেজনা সৃষ্টিকারী হরমোনও। এটি সেক্স করার ইচ্ছাও কমিয়ে দেয়। রিল্যাক্স করার সময়ই যদি না মেলে, তবে সেক্সের ইচ্ছাই বা আসবে কী করে?
৪। হৃদরোগের ঝুঁকি: গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, কম ঘুম হৃদরোগের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়। কম ঘুম হৃৎপিণ্ডের স্পন্দনে ব্যাঘাত ঘটায়। দীর্ঘদিন কম সময় ঘুমালে হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা তো কম নয়ই, বরং হার্ট ফেইলিওরও হতে পারে। এ ছাড়াও ব্লাড প্রেসার, ডায়াবেটিসের মতো বিপজ্জনক রোগগুলোও আপনার শরীরে বাসা বাঁধতে পারে।
৫। স্থূলতা (Obesity): অনেকে মনে করেন, ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে মোটা হচ্ছে। অথচ কম ঘুমোনো সত্ত্বেও আপনি আগের তুলনায় মোটা হয়ে যাচ্ছেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এর জন্য দায়ী পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া। পর্যাপ্ত না ঘুমোলে খিদে বেশি পায়, এমনটাও দেখা গেছে বিভিন্ন গবেষণায়। বেশি খাচ্ছেন, অথচ কম ঘুমের জন্য বিএমআর (BMR) রেট সঠিক নয়। ফলে শরীরে অতিরিক্ত ফ্যাট জমছে যা স্থূলতার কারণ হয়ে দাঁড়াবে।
৬। ভুলে যাওয়ার প্রবণতা: মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বিশ্রাম দরকার। ঘুম পর্যাপ্ত না হলে মস্তিষ্কের স্মৃতির অংশটি (Memory) দুর্বল হতে থাকে, যা ভুলিয়ে দিতে পারে আপনার অতি প্রয়োজনীয় ঘটনা বা কথাগুলোও।
৭। দুর্ঘটনার প্রবণতা বাড়ায়: কম ঘুমের ফলে মস্তিষ্ক ঠিকঠাক নির্দেশ দেওয়া-নেওয়ার কাজটি করতে পারে না। ফলে যা করতে চান, তা না হয়ে অন্য একটা ভুল কাজ হয়ে যেতে পারে। এই সমস্যা অত্যন্ত বিপজ্জনক। যেমন রাস্তায় বেরিয়ে ঠিকঠাক গাড়ি চালাতে গেলেও মস্তিষ্কের ভুলের জন্য বড়সড় ভুল বা দুর্ঘটনা হয়ে যেতে পারে।
উপসংহার: কম ঘুমিয়ে হয়তো অনেক কাজ সেরে ফেলা যায়, কিন্তু তাতে শরীরের প্রতি অন্যায় করা হয়। শরীর ঠিক না থাকলে কাজগুলোই বা তখন হবে কী করে। তাই সবার আগে নজর দিন নিজের শরীরের বিশ্রামের দিকে।