মুকুল রায়ের বিধায়ক পদ খারিজের রায় ‘ঐতিহাসিক’, কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে তোলপাড়

মুকুল রায়ের বিধায়ক পদ খারিজের নির্দেশ দিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের রায় রাজ্যে এক নতুন রাজনৈতিক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। বৃহস্পতিবার রায় ঘোষণার পর বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এই রায়কে ‘ঐতিহাসিক’ বলে দাবি করেছেন। অন্যদিকে, এই রায় নিয়ে স্পিকারের সাংবিধানিক অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়।

‘ঐতিহাসিক’ রায়, জিতল সংবিধান—দাবি শুভেন্দুর

রায় ঘোষণার কয়েক মিনিটের মধ্যেই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি দাবি করেন, এই রায় শুধুমাত্র রাজ্যের রাজনীতির জন্য নয়, দেশের সংবিধানের জন্যও “ঐতিহাসিক”। শুভেন্দুর কথায়, “অ্যান্টি-ডিফেকশন আইনের মূল চেতনাকে রক্ষা করেছে আদালত। সংবিধানের দশম তফসিল অনুযায়ী কোনও নির্বাচিত প্রতিনিধি দলবদল করলে তাঁর পদ খারিজ হওয়া উচিত। চার বছর ধরে এই লড়াই চালিয়েছি। আজ সংবিধান জিতল।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, বর্তমান রাজ্য সরকার ও স্পিকার ২০১১ সাল থেকে বহু বিরোধী বিধায়ককে দলবদল করালেও তাঁদের সদস্যপদ খারিজ করেননি। শুভেন্দু নিজের উদাহরণ দিয়ে বলেন, “আমি নিজে ২০২০ সালে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার আগে মন্ত্রিত্ব, বিধায়কত্ব— সব পদ ছেড়েছিলাম। আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেছিলাম। কিন্তু তৃণমূল সরকার সেই নীতি মানেনি।”

স্পিকারের প্রশ্ন: ‘সাংবিধানিক সুরক্ষা’ এবং ‘বিতর্কিত’ রায়

এদিকে, হাইকোর্টের রায় নিয়ে মুখ খুলেছেন বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তিনি জানান, মুকুল রায়ের বিরুদ্ধে আনা অ্যান্টি-ডিফেকশন আবেদন তিনি সবদিক বিবেচনা করেই খারিজ করেছিলেন। এখন আদালতের রায়টি পুরোটা দেখেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন। স্পিকারের দাবি, বিষয়টি “বিতর্কিত” এবং তাড়াহুড়ো করে কোনও মন্তব্য করা ঠিক হবে না।

তিনি বিধানসভার কাস্টোডিয়ান হিসেবে তাঁর সাংবিধানিক সুরক্ষার কথা তুলে ধরেন। অধ্যক্ষ বলেন, “সংবিধানের ২১২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বিধানসভার অভ্যন্তরীণ কার্যকলাপ নিয়ে আদালত সাধারণত হস্তক্ষেপ করতে পারে না। কীভাবে আদালত এখানে প্রবেশ করলেন, সেটা রায় না দেখে বলা সম্ভব নয়।” তিনি বিরোধী শিবিরকে বিঁধে বলেন, “ওদের কাজই হল পদত্যাগ চাওয়া। দিল্লির ঘটনার পরে তো অনেকেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পদত্যাগও দাবি করেছেন। আগে সেই নিয়ে বলুক, তারপর আমাদের প্রসঙ্গে ভাবব।”

অধ্যক্ষ হাইকোর্টের রায় হাতে পাওয়ার পর আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনা করে তবেই চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেবেন বলে জানিয়েছেন। ফলে মুকুল রায়ের বিধায়কপদের ভবিষ্যৎ এখন নতুন আইনি দিকনির্দেশের অপেক্ষায়।