শব্দের ৫ গুণ গতি, শত্রুর রাডার ধ্বংস! ভয়ঙ্কর রুদ্রম-৩ ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে ভারতীয় বিমান বাহিনীর বড় পরিকল্পনা

ভারতীয় বিমান বাহিনী (Indian Air Force) অদূর ভবিষ্যতে শত্রুর রাডার সিস্টেম ধ্বংস করার এক অভূতপূর্ব ক্ষমতা অর্জন করতে চলেছে। এই লক্ষ্যেই প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (DRDO) ভারতের সবচেয়ে উন্নত অ্যান্টি-রেডিয়েশন ক্ষেপণাস্ত্র রুদ্রম-৩ (Rudram-3) তৈরি করছে। এটি সম্পূর্ণরূপে মোতায়েন হতে প্রায় তিন বছর সময় লাগবে বলে আশা করা হচ্ছে এবং ২০২৮ সালের মধ্যে বায়ুসেনায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।

এই ক্ষেপণাস্ত্রটি বিশেষভাবে Su-30MKI যুদ্ধবিমানের জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। রুদ্রম-৩ এর পাল্লা ৫৫০ থেকে ৬০০ কিলোমিটার বলে অনুমান করা হচ্ছে। এর প্রধান লক্ষ্য হল শত্রুর রাডার নেটওয়ার্ক, ক্ষেপণাস্ত্র বাঙ্কার এবং মোবাইল লঞ্চারগুলিকে নিখুঁতভাবে ধ্বংস করা।

রুদ্রম-৩ কীভাবে কাজ করবে?
রুদ্রম-৩ একটি হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র, যা শব্দের গতির (ম্যাক ৫) চেয়ে পাঁচ গুণ বেশি বেগে উড়তে সক্ষম। এটি শত্রুর রাডার সিগন্যাল ট্র্যাক করে নিজেকে সেই দিকে চালিত করে এবং মুহূর্তের মধ্যে সেগুলিকে গুঁড়িয়ে দেয়। এর মডুলার ওয়ারহেড সিস্টেমের কারণে এটি প্রয়োজন অনুসারে বিভিন্ন ধরনের ওয়ারহেড (যেমন—নরম লক্ষ্যের জন্য ব্লাস্ট-ফ্র্যাগমেন্টেশন, বাঙ্কার ধ্বংসের জন্য পেনিট্রেশন ওয়ারহেড) বহন করতে পারে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, এই ক্ষেপণাস্ত্রটিতে লক-অন বিফোর লঞ্চ এবং লক-অন আফটার লঞ্চ (LOAL) উভয় মোড রয়েছে। এর ফলে পাইলটরা উড্ডয়নের পরেও লক্ষ্যবস্তু পরিবর্তন করার সুবিধা পাবেন।

অগ্রগতির হালহকিকত
ডিআরডিও এবং এইচএএল (HAL) ২০২৩ সাল থেকে এই প্রকল্প দ্রুতগতিতে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। ক্ষেপণাস্ত্রের মূল উপাদানগুলি, যেমন অত্যাধুনিক রাডার সিকার এবং রকেট মোটর, বর্তমানে উৎপাদনে রয়েছে। ২০২৫ সালের আগস্টে পোখরান থেকে সুখোই-৩০MKI যুদ্ধবিমান থেকে এর উৎক্ষেপণ পরীক্ষা (ক্যারেজ ট্রায়াল) সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এই ট্রায়ালে, ক্ষেপণাস্ত্রটি ১০ কিলোমিটার উচ্চতা থেকে ম্যাক ১.২ গতিতে বিমান থেকে সম্পূর্ণ স্থিতিশীলতার সাথে বিচ্ছিন্ন হয়।

এখন লাইভ ফায়ারিং ট্রায়ালের প্রস্তুতি চলছে, যা ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ শুরু হতে পারে। এরপর, ২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে ব্যবহারকারী ট্রায়াল শুরু হবে। তবে, হাইপারসনিক গতিতে ওয়ারহেডের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং রাডার সিকারের সংবেদনশীলতা আরও উন্নত করার জন্য কিছু প্রযুক্তিগত কাজ এখনও বাকি রয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে, ২০২৮ সালের মধ্যে ভারতীয় বায়ুসেনার হাতে এই ‘গেম চেঞ্জার’ ক্ষেপণাস্ত্র চলে আসবে।