বিভিন্ন ধরণের ক্যানসাড়ে মানুষ আক্রান্ত হয়। এরমধ্যে খাদ্যনালীর ক্যান্সার বা ইসোফেগাল ক্যান্সারের কথা আলাদা করে বলতে হবে। কারণ, এই ক্যান্সারে লক্ষণ সাধারণ হলেও মৃত্যু ঝুঁকি বেশি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বাংলাদেশে ক্যান্সার আক্রান্ত মানুষদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন খাদ্যনালীর ক্যান্সারে।
খাদ্যনালী হল মানুষের মুখ থেকে পাকস্থলীর সাথে সংযোগকৃত ফাঁকা নল। এর মূল কাজ মুখ গহ্বরে থাকা খাবার পাকস্থলী পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া। এটি খাদ্যনালীর অভ্যন্তরে প্রদাহ বা টিউমার থেকে ক্যান্সার হতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০২০ সালের ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক বছরে ২১ হাজার ৭৪৫ জনের মধ্যে খাদ্যনালীর ক্যান্সার শনাক্ত হয়েছে। এরমধ্যে পুরুষ আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় ১৪ হাজার এবং নারী আক্রান্ত হয়েছেন সাড়ে সাত হাজারের কিছু বেশি। এছাড়া এই ক্যান্সারে মৃত্যুহারও সবচেয়ে বেশি- প্রায় ১৪% এর মতো।
লক্ষণ: খাদ্যনালীর ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাব্য কিছু উপসর্গ রয়েছে, তবে সেগুলো বেশ সাধারণ হওয়ায় অনেকের পক্ষেই বোঝা কঠিন যে এর কারণ ক্যান্সার পর্যন্ত হতে পারে। এ ব্যাপারে কয়েকটি বিষয়ের দিকে খেয়াল রাখতে বলেছেন প্যাথলজি বিশেষজ্ঞ এবং জাতীয় ক্যান্সার ইন্সটিটিউটের সাবেক পরিচালক সামিউল ইসলাম এবং ব্রিটেনের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ।
প্রাথমিক অবস্থায় শক্ত খাবার গিলতে অসুবিধা হবে। পরবর্তীতে তরল খাবার খেতে এমনকি ঢোক গিলতেও কষ্ট হতে পারে।
হজমে সমস্যা যেমন: বুক জ্বালাপোড়া, বার বার ঢেকুর তোলা, মুখে টক জল আসা, পেটে ব্যথা ইত্যাদি বার বার দেখা দিতে পারে। এসব সমস্যার স্বাভাবিক চিকিৎসা নেয়ার দুই সপ্তাহ পরেও রোগ ভালো না হলে।
ছয় মাস থেকে এক বছরের মধ্যে অনেকখানি ওজন কমে গেলে, খাবারে অরুচি।
দীর্ঘদিন ধরে কাশি।
রাতের বেলা শ্বাসকষ্ট। গলা ও বুকের মাঝখানে ব্যথা, বিশেষ করে গিলতে গেলে।
বমি বমি ভাব, ক্লান্তিবোধ, দুর্বলতা। খাওয়ার সময় দম বন্ধ হয়ে আসা।
একটানা কোষ্টকাঠিন্য বা ডায়রিয়া।
এসব লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে বলেছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে এসব লক্ষণ থাকার অর্থ এই নয় যে কেউ খাদ্যনালীর ক্যান্সারে আক্রান্ত। এগুলো সাধারণ উপসর্গও হতে পারে।
খাদ্যনালীর ক্যান্সার কারণ: খাদ্যনালীর ক্যান্সারের পেছনে মানুষের খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রার বড় ধরণের সংযোগ আছে বলছেন চিকিৎসকরা। এই ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার পেছনে প্রধান কয়েকটি কারণ উল্লেখ করেন তারা।
অতিরিক্ত ফাস্টফুড, আধা-সেদ্ধ খাবার, পোড়া তেলে ভাজা খাবার খেলে।
পান, জর্দা, গুল, সিগারেট, বিড়ি এবং অতিরিক্ত মদপান করলে।
স্থূলতা
কৃত্রিম রং ও প্রিজারভেটিভযুক্ত ভেজাল খাবার খাওয়া।
সব ঋতুতে সব সময় গরম জল খাওয়ার অভ্যাস থাকলে।
সাধারণত ৪০ বা তার বেশি বয়সী মানুষের মধ্যে এই আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। তবে ৭৫ বছর বয়সের পর ঝুঁকি কমে যায়।
খাদ্যনালীর ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে করণীয়: জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন আনলে সুস্থ থাকা যায়। এমনকি কিছু নিয়ম মানলে খাদ্যনালীর ক্যানসারের মত রোগ থেকেও দূরে থাকা যায়। চিকিৎসকরা যে পরামর্শ দিচ্ছেন:
স্থূলতা বা ওজন বেশি হলে সেটা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করুন। নিয়মিত ব্যায়াম করুন।
গরম পানীয় পান করার আগে একটু ঠাণ্ডা হতে দিন, যাতে সেটি খাদ্যনালীর ক্ষতি না করে।
বৃহদান্ত্রে পলিপ থাকলে সেটার চিকিৎসা করান।
বয়স ৪৫ বছর হওয়ার পর প্রতিবছর চিকিৎসকের পরামর্শে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো
মদপান, সিগারেট, বিড়ি, জর্দা, পান, গুল ইত্যাদি নেশাজাতীয় দ্রব্য এড়িয়ে চলুন।
বাইরের ফাস্টফুড বা অস্বাস্থ্যকর ভেজাল খাবার এড়িয়ে বাড়িতে বানানো স্বাস্থ্যকর খাবার বিশেষত শাক সবজি খাওয়ার চেষ্টা করুন।





