জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এক বড়সড় সাফল্য অর্জন করল পঞ্জাব পুলিশের কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স ইউনিট। সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের সামরিক গোপনীয়তা চুরির এক ভয়ঙ্কর ছক তছনছ করে দিয়েছে প্রশাসন। জলন্ধরের বিশেষ অভিযানে গ্রেফতার করা হয়েছে ফিরোজপুরের বাসিন্দা সুখবিন্দর সিং ওরফে সুখাকে। তদন্তকারীদের দাবি, ধৃত ব্যক্তি সরাসরি পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর নির্দেশে কাজ করছিল এবং ভারতীয় সেনাবাহিনীর অত্যন্ত গোপন ও স্পর্শকাতর তথ্য পাচার করাই ছিল তার মূল লক্ষ্য।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এই চক্রের কাজের ধরন দেখে চক্ষু চড়কগাছ হয়েছে দুঁদে গোয়েন্দাদেরও। সুখবিন্দরের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে অত্যাধুনিক চীন-নির্মিত সোলার-চালিত ৪জি সিসিটিভি ক্যামেরা। এই ক্যামেরাগুলি সাধারণ সিসিটিভি থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। এগুলি চলতে কোনও ইলেকট্রিক কানেকশন লাগে না, সূর্যালোক থেকেই শক্তি সংগ্রহ করে ২৪ ঘণ্টা সক্রিয় থাকতে সক্ষম। কাপুরথলার বিভিন্ন কৌশলগত এলাকায়, বিশেষ করে সেনা ছাউনি এবং স্পর্শকাতর সামরিক স্থাপনাগুলোর আশেপাশে এই ক্যামেরাগুলি অত্যন্ত গোপনে বসিয়েছিল সুখা ও তার সহযোগীরা।
পঞ্জাব পুলিশের ডিজিপি গৌরব যাদব সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, এই ক্যামেরাগুলোতে ৪জি সিম কার্ড ব্যবহার করা হতো। সোলার পাওয়ারের সাহায্যে ক্যামেরাগুলি সচল থাকত এবং ইন্টারনেটের মাধ্যমে সরাসরি মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনে লাইভ ভিডিও ফুটেজ পৌঁছে যেত পাকিস্তানের হ্যান্ডলারদের কাছে। এর ফলে ভারতীয় সেনার মুভমেন্ট, সামরিক সরঞ্জামের যাতায়াত এবং ক্যাম্পের ভেতরের কার্যকলাপ রিয়েল-টাইমে দেখতে পেত ওপার বাংলার শত্রুরা। এটি দেশের নিরাপত্তার জন্য এক চরম উদ্বেগজনক বিষয়।
ঘটনার গুরুত্ব বুঝে অমৃতসরের স্টেট স্পেশাল অপারেশন সেল (SSOC)-এ একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, এই চক্রটি কেবল পঞ্জাবের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এর জাল আরও গভীরে ছড়িয়ে রয়েছে। এই অভিযানে মূলত চীন-নির্মিত সস্তা অথচ উন্নত প্রযুক্তির ডিভাইসের ব্যবহার দেখা গিয়েছে, যা শনাক্ত করা অত্যন্ত কঠিন। পাক হ্যান্ডলাররা এখন ড্রোন বা অনুপ্রবেশের পাশাপাশি এই ধরনের ‘হাই-টেক’ গুপ্তচরবৃত্তির ওপর জোর দিচ্ছে। বর্তমানে পুলিশ ধৃত সুখাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তার বাকি সঙ্গীদের খোঁজ চালাচ্ছে। সীমান্ত এলাকায় কড়া সতর্কতা জারি করা হ





