দক্ষিণ এশিয়ায় শক্তির ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে বড়সড় পদক্ষেপ নিল পাকিস্তান। বৃহস্পতিবার নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি ভূমি থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য ক্রুজ মিসাইল ‘ফাতাহ-৪’ (Fatah-4)-এর সফল পরীক্ষা চালিয়েছে দেশটি। পাক সামরিক বাহিনীর ‘আর্মি রকেট ফোর্স কমান্ড’-এর তত্ত্বাবধানে তৈরি এই ক্ষেপণাস্ত্রটি অত্যন্ত নিখুঁতভাবে দূরপাল্লার লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।
কেন বিপজ্জনক এই ‘ফাতাহ-৪’?
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘ফাতাহ-৪’ সাধারণ কোনো মিসাইল নয়। এতে ব্যবহার করা হয়েছে অত্যাধুনিক অ্যাভিওনিক্স এবং আধুনিক নেভিগেশন সিস্টেম। তবে এর সবচেয়ে শক্তিশালী দিক হলো ‘টেরেইন-হাগিং’ প্রযুক্তি। এই প্রযুক্তির ফলে মিসাইলটি ভূপৃষ্ঠের খুব কাছ দিয়ে অর্থাৎ অত্যন্ত নিচু দিয়ে উড়ে যেতে পারে। এর ফলে শত্রুপক্ষের রাডার ব্যবস্থাকে ফাঁকি দেওয়া এর জন্য সহজ হয়ে ওঠে এবং মাঝপথে একে আটকে দেওয়া বা ধ্বংস করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।
মিসাইলের শক্তি ও পাল্লা:
পাল্লা (Range): ৭৫০ কিলোমিটার।
বিস্ফোরক ক্ষমতা: এটি প্রায় ৩৩০ কিলোগ্রাম ওজনের ওয়ারহেড বা শক্তিশালী বিস্ফোরক বহন করতে পারে।
নির্ভুলতা: সুদূরপাল্লার লক্ষ্যবস্তুতেও অত্যন্ত নিখুঁতভাবে আঘাত হানতে সক্ষম।
ভারতের জন্য কতটা উদ্বেগের?
পাকিস্তানের এই নতুন মিসাইলের ৭৫০ কিলোমিটার পাল্লা ভারতের জন্য যথেষ্ট চিন্তার কারণ হতে পারে। যদি পাকিস্তান তাদের সীমান্ত এলাকা যেমন লাহোর বা শিয়ালকোট থেকে এই মিসাইল উৎক্ষেপণ করে, তবে ভারতের একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ শহর সরাসরি এর আওতার মধ্যে চলে আসবে।
তালিকায় রয়েছে— দিল্লি-এনসিআর, গুরুগ্রাম, নয়ডা, অমৃতসর, লুধিয়ানা, চণ্ডীগড়, জম্মু, পাঠানকোট, লখনউ, আগ্রা এবং মিরাটের মতো শহর। এছাড়া উত্তরাখণ্ড ও হিমাচল প্রদেশের বেশ কিছু কৌশলগত এলাকাও এই মিসাইলের নিশানায় চলে আসতে পারে।
নেপথ্যে কি অন্য কোনো শক্তি?
পাকিস্তান দাবি করেছে যে ‘ফাতাহ-৪’ সম্পূর্ণ তাদের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি। তবে আন্তর্জাতিক সামরিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের ধারণা, এই ক্ষেপণাস্ত্রের কারিগরি উন্নয়নে চিনের পরোক্ষ সহযোগিতা থাকার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যেকার বর্তমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মাঝেই এই পরীক্ষা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
ভারতের প্রস্তুতি:
পাকিস্তানের এই পদক্ষেপ ভারতের জন্য চ্যালেঞ্জ হলেও, ভারতীয় সেনাবাহিনীও সম্পূর্ণ প্রস্তুত। ভারতের হাতে ইতিমধ্যেই রয়েছে বিশ্বের অন্যতম দ্রুতগামী ক্রুজ মিসাইল ‘ব্রহ্মস’ এবং পরমাণু সক্ষমতাসম্পন্ন ‘অগ্নি’ সিরিজের মিসাইল। পাশাপাশি আকাশসীমা সুরক্ষায় ভারত মোতায়েন করেছে ‘S-400 Triumf’, ‘আকাশ’ এবং ‘বারাক-৮’-এর মতো অত্যাধুনিক মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেম, যা যেকোনো আকাশপথের হামলা রুখে দিতে সক্ষম।
পাকিস্তানের এই নতুন ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিল।





