পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসার পর এবার গো-হত্যা ও পশু জবাই রুখতে বড়সড় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিল শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার। বৃহস্পতিবার রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে একটি নতুন বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে, যেখানে গরু, ষাঁড়, মহিষ ও বাছুর জবাইয়ের ক্ষেত্রে অত্যন্ত কঠোর শর্তাবলী আরোপ করা হয়েছে। এই নিয়ম লঙ্ঘন করলে জেল ও জরিমানার মতো কঠোর শাস্তির বিধানও রাখা হয়েছে।
শংসাপত্র ছাড়া জবাই নিষিদ্ধ
নতুন সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, এখন থেকে অনুমোদিত স্থানীয় কর্মকর্তা এবং সরকারি পশুচিকিৎসকের (Veterinary Surgeon) দেওয়া ‘শারীরিক সুস্থতার শংসাপত্র’ বা ‘ফিটনেস সার্টিফিকেট’ ছাড়া কোনও পশু জবাই করা যাবে না। পশুটি জবাই করার যোগ্য কি না, তা চিকিৎসক পরীক্ষা করে দেখার পরই এই অনুমতি দেবেন। শংসাপত্রহীন কোনও পশু জবাই করা হলে তা আইনি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
কঠোর শর্তাবলী ও বয়সসীমা
বিজ্ঞপ্তিতে পশু জবাইয়ের ক্ষেত্রে একাধিক নতুন শর্ত যুক্ত করা হয়েছে:
বয়সসীমা: নির্দিষ্ট বয়সের নিচে থাকা কোনও গরু বা বাছুর জবাই করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
নির্দিষ্ট স্থান: যেখানে-সেখানে বা যত্রতত্র পশু জবাই করা যাবে না। শুধুমাত্র সরকার অনুমোদিত নির্দিষ্ট কসাইখানা বা স্লটার হাউজেই এই কাজ করা যাবে।
পরিবেশ ও স্বাস্থ্য: জনবসতিপূর্ণ এলাকায় বা খোলা জায়গায় পশু জবাইয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে যাতে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য বিঘ্নিত না হয়।
শাস্তির বিধান
রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এই নির্দেশিকা কার্যকর করার ক্ষেত্রে কোনও রকম শিথিলতা দেখানো হবে না। যদি কেউ সরকারি আধিকারিকের অনুমতি ছাড়া বা নির্দিষ্ট স্থানের বাইরে পশু জবাই করেন, তবে তাঁর বিরুদ্ধে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জরিমানা দেওয়ার পাশাপাশি অভিযুক্ত ব্যক্তিকে কারাদণ্ডও ভোগ করতে হতে পারে।
প্রশাসনিক মহলের মতে, রাজ্যে গবাদি পশুর অবৈধ পাচার এবং নিয়মবহির্ভূত জবাই রুখতেই এই নতুন ‘অ্যানিমাল স্লটার রুলস’ আনা হয়েছে। ইতিমধ্যেই জেলা প্রশাসন ও পুলিশকে এই নির্দেশিকা কঠোরভাবে পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাজ্য সরকারের এই নয়া ফরমানে মাংস ব্যবসায়ী ও পশুপালনকারীদের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।





