ছাত্রছাত্রীদের জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক উচ্চমাধ্যমিক। এই পরীক্ষার ফলের ওপরই নির্ভর করে আগামীর পথ চলা। প্রকাশিত হয়েছে ২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিকের মেধাতালিকা, আর সেখানে পাহাড়-জঙ্গলে ঘেরা জেলা পুরুলিয়া রীতিমতো দাপট দেখাল। এই সাফল্যের মূল কাণ্ডারি পুরুলিয়া রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যাপীঠ। স্কুলের ১৭ জন ছাত্র একযোগে মেধাতালিকায় জায়গা করে নিয়ে গোটা রাজ্যে সাড়া ফেলে দিয়েছে।
জঙ্গলমহলের উজ্জ্বল নক্ষত্র দেবপ্রিয়
কৃতিদের এই দীর্ঘ তালিকায় উজ্জ্বলতম নাম দেবপ্রিয় মাঝি। উচ্চমাধ্যমিকে রাজ্যে তৃতীয় স্থান অধিকার করে জেলার মুখ উজ্জ্বল করেছে সে। ৪৯৪ নম্বর পেয়ে সে প্রমাণ করে দিয়েছে, অধ্যাবসায় থাকলে সাফল্য ধরা দেবেই। দেবপ্রিয় জেলার পাড়া থানার অন্তর্গত ফুসরাবাদ এলাকার বাসিন্দা। পঞ্চম শ্রেণি থেকেই রামকৃষ্ণ মিশনে থেকে পড়াশোনা করছে সে। তার এই অভাবনীয় সাফল্যে খুশির জোয়ার সম্পূর্ণ মিশন চত্বরে।
সাফল্যের কৃতিত্ব ও ঈশ্বরের আরাধনা
ফলাফল হাতে পাওয়ার পরেই দেবপ্রিয় সপরিবারে হাজির হয় মৌতরের বড় কালীমন্দিরে। সেখানে দেবীর চরণে প্রণাম জানিয়ে সাফল্য উৎসর্গ করে সে। দেবপ্রিয় জানায়, “এই ফলাফলে আমি ভীষণ খুশি। আমার সাফল্যের পুরো কৃতিত্ব বাবা-মা এবং বিশেষ করে বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও মহারাজদের। তাঁদের আশীর্বাদ আর গাইডেন্স ছাড়া এই জায়গায় পৌঁছানো অসম্ভব ছিল।”
গর্বিত জননী ও মহারাজদের অবদান
ছেলের সাফল্যে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছেন মা টুম্পা মাঝি। তিনি বড় কালীর মন্দিরে পুজো দিয়ে বলেন, “ছেলের জন্য আজ গর্বে বুক ভরে যাচ্ছে। মহারাজদের শাসন আর শিক্ষকদের অকৃত্রিম যত্নেই দেবপ্রিয় আজ রাজ্যে তৃতীয়। ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি, জেলার অন্যান্য মায়েরা যেন তাঁদের সন্তানদের এমন সাফল্যে হাসতে পারেন।”
পুরুলিয়া রামকৃষ্ণ মিশনের এই অভাবনীয় ফলাফল জেলার শিক্ষামহলে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করেছে। একদিকে মহারাজদের কড়া অনুশাসন আর অন্যদিকে শিক্ষকদের নিবিড় পঠনপাঠন— এই দুইয়ের মিশেলেই যে ১৭ জন ছাত্র মেধাতালিকায় স্থান পেয়েছে, তা এককথায় অনবদ্য।





