২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পালাবদলের পর রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখন অগ্নিগর্ভ। বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্ট চত্বরে এক নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী থাকল শহর। ভোট পরবর্তী হিংসা সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানিতে যোগ দিতে এসে আইনজীবীদের একাংশের তীব্র বিক্ষোভ এবং ‘চোর চোর’ স্লোগানের মুখে পড়লেন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা।
হাইকোর্ট চত্বরে চরম বিশৃঙ্খলা
তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের ওপর ভোট পরবর্তী হিংসার অভিযোগ তুলে করা একটি জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে এদিন আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকে নিয়ে আদালতে পৌঁছন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আদালত চত্বরে ঢোকার সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও, শুনানি শেষে বেরোনোর সময় রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় হাইকোর্ট চত্বর।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন এজলাস থেকে বেরিয়ে নিজের গাড়ির দিকে যাচ্ছিলেন, তখন একদল আইনজীবী তাঁকে ঘিরে ধরে ‘চোর চোর’ স্লোগান দিতে শুরু করেন। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, নিজস্ব দেহরক্ষী এবং পুলিশের বিশাল বাহিনীকে রীতিমতো ধস্তাধস্তি করে তাঁকে গাড়িতে তুলে দিতে হয়।
“মাছ দিয়ে শাক ঢাকার চেষ্টা,” কটাক্ষ শমীকের
এই ঘটনা প্রসঙ্গে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য তৃণমূল নেত্রীকে তীব্র আক্রমণ শানান। তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মাছ দিয়ে শাক ঢাকার চেষ্টা করছেন। উনি যদি মাছটাকে ঢেকেও ফেলেন, তবে শাকটাকে ঢাকবেন কী দিয়ে? ২০২১ সালের নির্বাচনের পর ৫৬ জন বিজেপি কর্মীকে খুন হতে হয়েছিল। বহু মহিলা কর্মী জনসমক্ষে গণধর্ষণের অভিযোগ তুলেছিলেন। জেসিবি দিয়ে বাড়ি ভাঙা হয়েছিল। আজ সেই কৃতকর্মের ফলই ওঁর পিছু ছাড়ছে না।”
শমীক ভট্টাচার্য আরও যোগ করেন যে, তৃণমূলের আমলে ‘শাসকের আইন’ চলত, আর এখন বাংলায় ‘আইনের শাসন’ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
বিক্ষোভে দায় অস্বীকার বিজেপির
আদালত চত্বরের এই বিক্ষোভের পেছনে বিজেপির হাত আছে বলে তৃণমূল দাবি করলেও, তা সরাসরি নস্যাৎ করে দিয়েছেন শমীক ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, “এটা বিজেপির সংস্কৃতি নয়। উনি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এবং একজন মহিলা। তাঁকে রাস্তায় দেখে কেউ ‘চোর’ স্লোগান দিক, এটা বিজেপি চায় না। কিন্তু মনে রাখতে হবে, যে কাজ তৃণমূল করেছে, তারই প্রতিক্রিয়া এখন সাধারণ মানুষের মধ্যে দেখা যাচ্ছে। এটা এখন বঞ্চিত মানুষদের লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে।”
তৃণমূল নেত্রীর এই হেনস্থাকে ঘিরে এখন উত্তাল রাজ্যের রাজনৈতিক মহল। একদিকে শাসক শিবিরের দাবি, পরিকল্পনা করে এই বিক্ষোভ সংগঠিত করা হয়েছে, অন্যদিকে বিরোধীদের মতে, সাধারণ মানুষের পুঞ্জীভূত ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ এই ঘটনা।





