শহরের রাস্তা থেকে অবৈধ পার্কিংয়ের দৌরাত্ম্য মুছতে এবার বড়সড় অ্যাকশন প্ল্যানে নামল রাজ্য সরকার। পার্কিংয়ের নামে বেআইনিভাবে সাধারণ মানুষের পকেট কাটার দিন যে শেষ, বৃহস্পতিবার বিধানসভায় দাঁড়িয়ে সেই কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন রাজ্যের নগরোন্নয়ন, নারী ও শিশু কল্যাণ মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল।
পার্কিং-রাজ রুখতে নয়া দাওয়াই
দীর্ঘদিন ধরেই কলকাতা-সহ বিভিন্ন বড় শহরে রাস্তার ধারে অবৈধ পার্কিং ও পার্কিং ফি-র নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ আসছিল। এই ‘পার্কিং মাফিয়া’দের দাপটে একদিকে যেমন সাধারণ চালকেরা নাজেহাল হচ্ছিলেন, তেমনই সরকারও বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছিল।
মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল এদিন স্পষ্ট জানান, রাস্তার ধারে যেখানে-সেখানে পার্কিং করে আর টাকা তোলা যাবে না। এবার থেকে:
শহরাঞ্চলে সুনির্দিষ্ট ‘পার্কিং জোন’ তৈরি করা হবে।
প্রতিটি জোনে সরকার নির্ধারিত রেট চার্ট টাঙিয়ে রাখা বাধ্যতামূলক।
নির্ধারিত চার্টের বাইরে এক টাকা বেশি নিলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে নেওয়া হবে কড়া প্রশাসনিক ব্যবস্থা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে পার্কিংয়ের আড়ালে চলা ‘সিন্ডিকেট’ বা তোলাবাজি বন্ধ করতেই নতুন সরকারের এই কড়া পদক্ষেপ।
আবর্জনা ফেললে অ্যাপে অভিযোগ!
শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখতেও প্রযুক্তির সাহায্য নিচ্ছে প্রশাসন। মন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, যত্রতত্র ময়লা ফেলা রুখতে একটি বিশেষ মোবাইল অ্যাপ চালু করা হচ্ছে। রাস্তাঘাটে কোথাও আবর্জনা জমে থাকলে সাধারণ মানুষ সরাসরি ওই অ্যাপের মাধ্যমে ছবি তুলে অভিযোগ জানাতে পারবেন। প্রশাসনের তরফ থেকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে।
নারী ও শিশু সুরক্ষায় জোর
শুধু ট্রাফিক বা পরিচ্ছন্নতা নয়, অগ্নিমিত্রা পালের মন্ত্রক এদিন নারী ও শিশু সুরক্ষার ক্ষেত্রেও নতুন উদ্যোগের কথা জানিয়েছে। মহিলাদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে খুব শীঘ্রই একটি বিশেষ ডেডিকেটেড হেল্পলাইন নম্বর চালু করা হবে। এর ফলে বিপদে পড়লে বা কোনো অভিযোগ থাকলে সরাসরি প্রশাসনের কাছে পৌঁছানো যাবে এবং দ্রুত সহায়তা মিলবে।
শহরের ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ, নাগরিক পরিষেবা এবং নারী নিরাপত্তা— এই তিন স্তম্ভকে একসূত্রে বেঁধে এক আধুনিক ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তোলাই নতুন সরকারের লক্ষ্য বলে মনে করা হচ্ছে। এখন দেখার, সরকারের এই কড়া দাওয়াই সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কতটা কমাতে পারে।





