দেশের একমাত্র আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে পরিচিত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) ফের উত্তাল। মঙ্গলবার রাতে ক্যাম্পাসের ভেতরেই এক ছাত্রীকে ঝোপের অন্ধকারে টেনে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাতভর বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। অভিযুক্তকে গ্রেফতারে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেওয়ার পাশাপাশি প্রশাসনের পদত্যাগের দাবিতে প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নেন কয়েকশ নারী শিক্ষার্থী।
ঠিক কী ঘটেছিল মঙ্গলবার রাতে?
ঘটনার বিবরণ দিয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী জানান, মঙ্গলবার রাত ১১টা নাগাদ পরিত্যক্ত ফজিলাতুন্নেছা হলের সামনের রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন ওই ছাত্রী। এ সময় এক ব্যক্তি তাঁর পথ আটকে কথা বলার চেষ্টা করে এবং নিজেকে বিশ্ববিদ্যালয়েরই ছাত্র হিসেবে পরিচয় দেয়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই ওই ব্যক্তি ছাত্রীকে টেনে হিঁচড়ে পাশের ঝোপের অন্ধকারে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। ছাত্রীর চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে অভিযুক্ত ব্যক্তি পালিয়ে যায়। পরে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা কেন্দ্রে নেওয়া হয়।
সিসিটিভি ফুটেজে শনাক্ত অভিযুক্তের মুখ
ঘটনার পর আশুলিয়া থানা পুলিশ ক্যাম্পাসের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে। আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম জানান, “ভিডিও ফুটেজে আসামির চেহারা স্পষ্ট দেখা গেছে। তবে সে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নাকি বহিরাগত, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তাকে শনাক্ত ও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।” ঢাকা জেলা পুলিশের ফেসবুক পেজেও অভিযুক্তের ছবি দিয়ে সহায়তার আবেদন জানানো হয়েছে।
মাঝরাতে ছাত্রীদের ‘বিদ্রোহ’
বুধবার রাত ১০টা থেকে ক্যাম্পাসজুড়ে শুরু হয় প্রতিবাদী মিছিল। সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে কয়েকশ নারী শিক্ষার্থী স্লোগান দিতে দিতে প্রক্টর অফিসের সামনে অবস্থান নেন। পরে তাঁদের সাথে ছাত্ররা যোগ দিলে আন্দোলন আরও জোরালো হয়। রাত দেড়টা থেকে সাড়ে তিনটা পর্যন্ত উপাচার্য অধ্যাপক কামরুল আহসানের কার্যালয়ে চলে দফায় দফায় বৈঠক।
শিক্ষার্থীদের ৬ দফা দাবি:
৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তকে গ্রেফতার।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগ।
পুরো ক্যাম্পাস সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা।
বহিরাগত প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা।
নিরাপত্তা নিয়ে প্রশাসনের ‘অসহায়ত্ব’
প্রায় সাতশ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত এই ক্যাম্পাসে কেন বারবার এমন ঘটনা ঘটছে? প্রশ্নের জবাবে প্রক্টর অধ্যাপক রাশিদুল আলম জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনদিকে লোকালয় হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা ক্যাম্পাসের ভেতর দিয়েই যাতায়াত করেন। তিনি আর্থিক সংকটের কথা উল্লেখ করে বলেন, “আমাদের সীমানা প্রাচীর এখনও সম্পূর্ণ নয়। তবে আমরা আড়াইশ’র বেশি সিসিটিভি ক্যামেরা লাগিয়েছি। বহিরাগত প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে আরও কড়াকড়ি করা হবে।”
উল্লেখ্য, অতীতেও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে একাধিকবার শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণের মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এবারের এই ঘটনায় বিচার না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। আগামী ২১শে মে থেকে দীর্ঘ ২৫ দিনের ছুটিতে যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়, তার আগেই এই ঘটনার সুষ্ঠু সমাধান চান সাধারণ শিক্ষার্থীরা।





