এপ্রিলের শেষ লগ্নে উত্তর, মধ্য এবং পূর্ব ভারতের আকাশ থেকে যেন আগুন ঝরছে। ৪৩ থেকে ৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের তীব্র দহনে যখন জনজীবন ওষ্ঠাগত, ঠিক তখনই এক পশলা স্বস্তির বার্তা শোনাল আবহাওয়া দপ্তর। ইউরোপিয়ান সেন্টার ফর মিডিয়াম রেঞ্জ ওয়েদার ফোরকাস্টস (ECMWF)-এর সাম্প্রতিক পূর্বাভাস বলছে, এ বছর নির্ধারিত সময়ের আগেই ভারতে প্রবেশ করতে পারে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু।
কবে ও কোথায় বর্ষার এন্ট্রি?
সাধারণত জুন মাসের শুরুতে ভারতের মূল ভূখণ্ডে বর্ষা প্রবেশ করে। তবে আবহাওয়া বিশ্লেষক দেবেন্দ্র ত্রিপাঠী ও সাব সিজনাল চার্ট অনুযায়ী:
১৮ – ২৫ মে: আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে বর্ষার মেঘপুঞ্জ আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা।
২৫ মে-এর আশেপাশে: ভারতের মূল ভূখণ্ডে (কেরল উপকূলে) প্রবেশ করতে পারে মৌসুমী বায়ু।
২৪ মে – ১ জুন: পশ্চিম ও উত্তর দিকে অগ্রসর হয়ে কেরল ও তামিলনাড়ুর দক্ষিণ অংশে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত ঘটাতে পারে।
কেন এবার আগেভাগে বর্ষা?
আবহাওয়াবিদদের মতে, এবার বর্ষা দ্রুত আসার পেছনে কাজ করছে কয়েকটি শক্তিশালী অনুঘটক:
এল নিনোর বিদায়: এ বছর এল নিনোর প্রভাব থাকছে না, যা পর্যাপ্ত বৃষ্টির জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক সংকেত।
আইওডি (IOD) ফ্যাক্টর: ইন্ডিয়ান ওশান ডিপোল বর্তমানে বর্ষার অনুকূলে রয়েছে। ভারত মহাসাগরের উষ্ণতা বাড়লে বর্ষা আরও শক্তিশালী হয়।
তীব্র তাপপ্রবাহ: বছরের শুরুতেই মাত্রাতিরিক্ত গরমের কারণে সমুদ্র থেকে আসা আর্দ্র বাতাস দ্রুত স্থলভাগের দিকে আকৃষ্ট হচ্ছে, যা বর্ষার পথ প্রশস্ত করছে।
কৃষিকাজে আশার আলো
গত বছরও আগাম বর্ষার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল এবং বাস্তবে ২৭ মে নাগাদ বৃষ্টি শুরু হয়ে গিয়েছিল। ২০২৬ সালেও সেই একই ধারার পুনরাবৃত্তি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। সময়মতো এবং আগাম বৃষ্টিপাত হলে কেবল সাধারণ মানুষই স্বস্তি পাবেন না, বরং খরিফ চাষের জন্যও এক আদর্শ পরিবেশ তৈরি হবে।
আন্দামান সাগরের ওপর বর্তমানে দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে জোরালো হাওয়া বইছে। এর ফলে ওই অঞ্চলে স্বাভাবিকের তুলনায় ৩০-৬০ মিমি বেশি বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। তীব্র রোদে পুড়তে থাকা দক্ষিণ ভারত এবং পরবর্তীতে পূর্ব ভারতেও এই খবর কিছুটা হলেও স্বস্তি বয়ে এনেছে।





