পায়ের তালুতে জ্বালা বা ‘বার্নিং ফিট সিনড্রোম’ বর্তমান সময়ের একটি অত্যন্ত সাধারণ সমস্যা। অনেকেই রাতে ঘুমানোর সময় পায়ের তলায় আগুনের মতো আঁচ অনুভব করেন, যা ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায় এবং দৈনন্দিন জীবনে অস্বস্তি বাড়িয়ে তোলে। অনেক সময় আমরা একে সাধারণ ক্লান্তি ভেবে এড়িয়ে যাই, কিন্তু এই ছোট সমস্যাটিই হতে পারে কোনো বড় শারীরিক জটিলতার আগাম সতর্কবার্তা।
চিকিৎসকদের মতে, পায়ের তালুতে জ্বালা হওয়ার প্রধান কারণ হলো পেরিফেরাল নিউরোপ্যাথি বা স্নায়ুর ক্ষতি। বিশেষ করে যারা দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিসে ভুগছেন, তাদের রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে না থাকলে পায়ের স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যার ফলে জ্বালাপোড়া শুরু হয়। এছাড়া ভিটামিন B12, B6 এবং ভিটামিন B9-এর অভাব এই সমস্যার অন্যতম মূল কারণ। শরীরে এই জরুরি ভিটামিনগুলোর ঘাটতি হলে স্নায়বিক দুর্বলতা দেখা দেয়।
এছাড়াও কিডনির সমস্যা, থাইরয়েড হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, কিংবা অতিরিক্ত মদ্যপানের কারণেও পায়ের পাতায় জ্বালা অনুভূত হতে পারে। অনেকে আবার ভুল মাপের জুতো পরেন বা দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে কাজ করেন, যা রক্ত সঞ্চালনে বাধা সৃষ্টি করে এবং পা গরম করে তোলে।
কী করবেন?
যদি ঘরোয়াভাবে আরাম পেতে চান, তবে প্রতিদিন রাতে শোবার আগে হালকা গরম জলে সামান্য নুন মিশিয়ে পা ডুবিয়ে রাখুন। আপেল সাইডার ভিনিগার বা নারকেল তেল দিয়ে মালিশ করলেও রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক হয়। তবে মনে রাখবেন, যদি এই জ্বালাভাব একটানা চলতে থাকে এবং তার সাথে পা অবশ হয়ে যাওয়া বা ঝিঁঝিঁ ধরার মতো সমস্যা দেখা দেয়, তবে দেরি না করে অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। কারণ সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় না করলে পরবর্তীতে স্নায়ুর স্থায়ী ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সুস্থ থাকতে আজই নিজের পায়ের যত্নে সচেতন হন।





